Published : 25 Apr 2026, 09:45 PM
করের আওতা বাড়াতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক পাতার ডিজিটাল রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) তরফে।
বছরে ১০০ বা ১ হাজার টাকার ‘প্রতীকী’ ন্যূনতম কর ব্যবস্থা চালু করে নতুন করদাতা ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার সকালে রাজস্ব ভবনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান।
তিনি আগামী বাজেট ‘শাস্তিমূলক’ না করে ‘সহায়তামূলক’ করার আহ্বান জানান।
প্রতীকী কর চালুর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “বর্তমানে ১ কোটির বেশি ই-টিআইএন ধারী থাকলেও নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করছেন অর্ধেকেরও কম, যা আমাদের কর কাঠামোর বড় দুর্বলতা। চেম্বারের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরেও বাজেটে এর প্রতিফলন নগণ্য। দেশের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অর্থপূর্ণভাবে করের আওতায় আনা না গেলে জাতীয় কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করা কার্যত অসম্ভব।
“এমতাবস্থায় নতুন করদাতাদের করভীতি দূর করতে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে সম্পৃক্ত করতে আমরা বছরে মাত্র ১০০ বা ১০০০ টাকার একটি 'প্রতীকী ন্যূনতম কর' প্রবর্তন এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ‘ওয়ান-পেজ ডিজিটাল রিটার্ন' দাখিল ব্যবস্থা প্রচলনের প্রস্তাব করছি।”
এ সময় করের আওতা বাড়াতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলেন।
‘সবচেয়ে বেশি কর ফাঁকি তামাক খাতে হয়’ মন্তব্য করে তা কমানোর পরিকল্পনায় তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমার লিকেজ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে টোব্যাকোতে। আমরা যেটা শুনি, কমপ্লায়েন্ট ট্যাক্সপেয়ার আর যারা নন-কমপ্লায়েন্ট ট্যাক্সপেয়ার, যেটা ওদের মার্কেট শেয়ার, আমরা তার কাছাকাছিও কোনো রেভিনিউ পাই না।
“তো আমরা যদি টোব্যাকো দিয়ে শুরু করব। আমরা প্রত্যেকটা টোব্যাকোর এখন যে ব্যান্ডরোলগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর টোটালি কালার পরিবর্তন, এবং যে স্টাইলে আঠা দেওয়া হয় সেগুলো পরিবর্তন করব। এবং সেখানে এয়ার কোড, যেটা অত্যাধুনিক, অথবা কিউআর কোড, এগুলো যদি চালু করি, তাহলে আমরা টোটাল জিনিসটাকেই সিস্টেমে নিয়ে আসতে পারব। তখন আমার ট্যাক্স বেইজ এবং ভ্যাটের বেইজ, দুইটাই বড় হয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি।”
এ সময় সিগারেটে থাকা বর্তমানের ৮৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আর বাড়ানো হবে না বলে তুলে ধরেন তিনি। তবে দাম আরো বাড়ার ইঙ্গিত মেলে তার ভাষ্যে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “টোব্যাকো থেকে রেভিনিউ বাড়াতে হবে। টোব্যাকোকে আরও কস্টলি করতে হবে। কিন্তু ট্যাক্স যে রেট আছে ৮৩ পার্সেন্ট, এটা বাড়বে না।”