১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নদীপথ কার্যকারিতা হারানোয় ‘ব্যয়বহুল’ হচ্ছে পণ্য পরিবহন: ডিসিসিআই

“সড়ক পথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ৫৫-৬০ শতাংশ কম,” বলেন সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

নদীপথ কার্যকারিতা হারানোয় ‘ব্যয়বহুল’ হচ্ছে পণ্য পরিবহন: ডিসিসিআই
ডিসিসিআই আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2026, 08:23 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

দখল আর দীর্ঘদিনের অবহেলায় দেশের নদী ও খালগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে তুলে ধরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, নদীপথ পিছিয়ে পড়ায় পণ্য পরিবহন ‘ব্যয়বহুল’ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের ১ হাজার ৪১৫টির বেশি নদীর অবস্থা ‘অত্যন্ত শোচনীয়’। দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল এবং পলি জমার কারণে এই নদী ও খালগুলোর ৫৫ শতাংশেরও বেশি কার্যকারিতা হারিয়েছে।

“নদী পথ পিছিয়ে পড়ার কারণে দেশের ৭৭ শতাংশ পণ্য পরিবহন সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।”

বুধবার ডিসিসিআই আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

‘বাংলাদেশের বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনারে তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বলে ডিসিসিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে।

ব্যবসায়ী এ নেতা বলেন, “সড়ক পথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ৫৫-৬০ শতাংশ কম এবং এটি ৪-৬ গুণ জ্বালানি সাশ্রয় করে থাকে, ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পাবে।”

রাজধানীর চারপাশের চারটি নদীর ১১২ কিলোমিটার নৌপথকে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আদলে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং নাব্যতা বাড়াতে খনন কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়াতে কার্যকর সাপ্লাইচেইন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার বাস্তবায়ন এবং নদীর সংলগ্ন এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। 

সেমিনারে পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “রাজধানীর ঢাকার চারপাশের খালগুলো আমাদের প্রত্যাহিক জীবনের রক্তনালীর মতো; যদিও দখল ও দূষণের ফলে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

“তবে বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনি ইস্তেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তবে এ কর্মসূচির সুফল পেতে সারাদেশের খালগুলোর মধ্যকার আন্ত:সংযুক্তি একান্ত অপরিহার্য।”

পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গবেষণা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তার কোনো ‘বিকল্প নেই’ বর্ণনা করে তিনি বলেন, “এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

সেমিনারে অংশ নেন পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ হোসেন, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন সরকার, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সিনিয়র স্পেশালিস্ট মো. তানিম সারওয়ার, আল্টাফুয়েল ড্রেজিং অ্যান্ড মেরিন সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান শওকত ইকবাল ও ভিত্তি স্থপতি বৃন্দ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠতারা অংশীদার স্থপতি ইকবাল হাবিব।