০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য এবার

চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি (৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2017, 06:55 PM

Updated : 12 Apr 2022, 12:02 AM

এবার প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে ৩ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আসবে বলে ধরা হয়েছে, যা মোট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতে রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “আশা করি এই টার্গেটে আমরা পৌঁছাতে পারব।”

২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ কোটি (৩৭ বিলিয়ন) ডলার। সেই হিসেবে এবার এই লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

গত অর্থ বছরে ৩৪ দশমিক ৮৩৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সেবাখাতে ৩৫০ কোটি ডলার নিয়ে চলতি অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তোফায়েল আহমেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উভেন পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে একহাজার ৫০৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ০৮ শতাংশ বেশি।

আর চলতি অর্থবছরে নিট পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫১০ কোটি ডলার; এতে প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

তোফায়েল জানান, গত অর্থবছর তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৮১৪ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমকি ৮১ শতাংশ।

এর মধ্যে নিট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৩৭৫ কোটি ডলার; উভেন পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৪৩৯ কোটি ডলার।

এবার ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩৮ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

১ দশমিক ৬১ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধরে হিমায়িত মাছ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ৬ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।

অন্যদিকে ২৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে প্লাস্টিক পণ্যে ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ওষুধে ১০ কোটি ডলার এবং ১০ দশমিক ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে হোম টেক্সটাইল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৮ কোটি ডলার।

এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৭ কোটি ৬০ লাখ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি ২৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।

আর ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ডিরামিক্স পণ্যে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৪ কোটি ৩ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, শিল্প সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নমিতা হালদার, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্রাচার্য্য, এফবিসিসিআই’র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।