দুই দিনে সাড়ে ৬ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক, বাড়ছে রেমিটেন্সও
কোরবানি ঈদের আগে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ধারা বজায় রয়েছে।
প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দিনের মত ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের দিনের মত প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এবার কেনা হয়েছে দুই কোটি ডলার।
মঙ্গলবার একটি ব্যাংক থেকে এ পরিমাণ ডলার কেনার তথ্য দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের দিন একই দরে আরেকটি ব্যাংক থেকে কিনেছিল সাড়ে ৪ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত বাজার থেকে সাড়ে ১৪ কোটি ডলার কেনা হয়েছে।
এদিকে কোরবানি ঈদের আগে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ধারা বজায় রয়েছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১১ দিনে তারা রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ১৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার; যা বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম ১১ দিনে রেমিটেন্স আসে ৯২ কোটি ২০ লাখ ডলার। পুরো মাসে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৮ অথবা ২৯ মে দেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। এর আগে পর্যন্ত রেমিটেন্সে উল্লম্ফনের এ ধারা অব্যাহত থাকার আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র।
রোববার প্রকাশিত রেমিটেন্সের তথ্যে দেখা যায়, সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসের ১১ দিনে ৩০ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২১ শতাংশ বেশি।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই তা ছাড়িয়ে গেছে এ অর্থবছরে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেক ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের স্থিতি সীমা ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে আমদানি চাপ খুব বেশি না থাকায় ডলারের চাহিদাও তেমন নেই। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ডলার কিনছে।
এছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের বিপরীতে সুবিধাভোগীদের টাকা যোগান দেওয়া ও মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাজার থেকে ডলার তুলে নিচেছ বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে একদিকে ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি রিজার্ভ বাড়াতে পারছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৫৮১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার কিনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
