Published : 17 Jan 2026, 12:37 AM
ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ‘২০ থেকে ৩০ টাকা’ পর্যন্ত বেড়ে গেছে সবজির দাম। কারণ হিসেবে বিক্রেতারা ‘সরবরাহে টান’ পড়ার কথা বললেও ক্রেতারা বলছেন, সেসব কেবলই ‘অজুহাত’।
শীতের সময়ে সবজির দাম ক্রেতার নাগালেই থাকা কথা; কিন্তু জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পর থেকেই কিছু সবজির দামে ঊর্ধ্বমূখী প্রবণতা দেখে গেছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর রায়েরবাগ, শনির আখাড়া ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির দাম আরও বাড়তি। টমেটো, শালগম, শিম, বেগুন ও লাউয়ের মত সবজির দাম বেড়ে গেছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে।
এদিন ‘নলডাঙা’ শিম ৮০ টাকায় উঠেছে, শীতের শুরুর দিকে ‘নলডাঙা’ শিমের এই দাম ছিল। গত সপ্তাহের শুক্রবার এ শিম বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। বিচিযুক্ত এ সিম দক্ষিণের জেলাগুলোতে বেশি চাষ হয়।
দামে বেশি কেন, এ প্রশ্নে রায়েরবাগ কাঁচাবাজারের বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘শীতে তো মানুষ ক্ষেতে যাইতে পারে না। তাই মাল (সবজি) আইতাছে কম, তাই দাম বাড়তি।’’

শনিরআখড়া কাঁচাবাজারের দোকানি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘‘একটা লাউ গত সপ্তাহে বেচছি ৫০-৬০ টাকায়। আইজকা ১০০-১২০ টাকা বেচতাছি।’’
লাউ কিনতে এসে দাম দেখে সিদ্ধান্ত বদলান রবিউল ইসলাম নামে এক ক্রেতা। শনিরআখড়া কাঁচবাজারে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “দ্যাখেন, একটা লাউ ১০০ টাকা। এইডা কোনো দাম। এহন দাম থাকব ৫০-৬০ টাকা, চাইতাছে ১০০ টাকা।”
রবিউলের কথায়, “দাম বাড়লো ক্যান জিগাইলে কয় ঠান্ডায় মাল আসতাছে না। চালাকি বুঝলেন? সব আইতারে ঠান্ডায় সবজির ট্রাক আইতারে না?’’
আগের সপ্তাহে ৪০ টাকা বিক্রি হওয়া শালগমের দাম শুক্রবার ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শনিরআখড়া কাঁচবাজারে ৪০ টাকার নিচে কোনো শিম পাওয়া যায়নি। আগের সপ্তাহেও ৩০ টাকায় প্রতি কেজি বিচি ছাড়া শিম বিক্রি হয়েছে।
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে দেশি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। আগের সপ্তাহের শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৮০-৯০ টাকায়।
আগের সপ্তাহের দর ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে কাঁচামরিচ।

শনিরআখড়া বাজারে সাদা গোল বেগুন ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে শুক্রবার। আগের সপ্তাহেও একই দর ছিল। লম্বা বেগুনের দাম প্রতি কেজি ১০টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়।
এ বাজারে শীতের জনপ্রিয় সবজি মটরসুঁটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০-১১০ টাকা। আগের সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১০০ টাকায়।
এ ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা কেজিতে বেড়ে মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। পেঁপে আগের দর ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
নতুন আলু পাঁচ কেজি ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে মাঝাড়ি আকারের আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ টাকায়।
সেগুনবাগিচার মাদারীপুর জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা জয়নুল হোসেন বলেন, “বস্তা থেকে বের করে ছোট আলু আলাদা করে এক সাইজের আলু বিক্রি করতে হয় দোকানে। তাই একটু দাম বেশি রাখতে হয়।
চিচিঙ্গা আগের সপ্তাহের দর প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেগুনবাগিচায়। দাম কমেছে গাজরের। ১০ টাকা কমে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। নতুন ওঠা ব্রকলি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।
সেগুনবাগিচার এক দোকানি বলেন, ফুল কপির দামও বেড়েছে। আগের সপ্তাহে ২০ টাকা বিক্রি হওয়া ফুলকপি এখন ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।
রায়েরবাগে করলা বিক্রি হয়েছে আগের দর প্রতি কেজি ৮০ টাকায়।

দেশি পেঁয়াজ শনিরআখড়া কাঁচাবাজারে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়।
সবজির বাজার চড়তে থাকলেও মাছের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে।
আগের সপ্তাহে ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়া রুই মাছ শুক্রবার সেগুনবাগিচায় ২৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
শনিরআখড়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা কমে পাবদা মাছ ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হয়েছে আগের ২০০-২২০ টাকায়। নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকায়।
চিংড়ির জাত ও আকারভেদে দামে ভিন্নতা রয়েছে। গত সপ্তাহে ৫৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া চিংড়ি শুক্রবার ৫০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে।
ডিম আগের সপ্তাহের মত প্রতি ডজন ১২০ টাকা ও গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।