Published : 26 Nov 2025, 01:27 PM
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা রুটে ওড়া শুরু করেছে নতুন ‘লো কস্ট ক্যারিয়ার’ ফ্লাইআডিল। সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে এ খাতের ‘ক্রিমিনালিটি’ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করলেন বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তার প্রশ্ন, কম খরচের (লো কস্ট) এয়ারলাইন্সের ভাড়া কী করে প্রচলিত এয়ারলাইন্সগুলোর চেযে বেশি হয়ে যায়? এই বাড়তি টাকা কার পকেটে যায়?
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সউদিঅ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের সহযোগী কোম্পানি ফ্লাইআডিল মূলত একটি বাজেট এয়ারলাইন্স বা লো কস্ট ক্যারিয়ার। গত বুধবার থেকে তারা ঢাকা-জেদ্দা রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে এবং অচিরেই আরও রুট বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে এই কম খরচের এয়ারলাইন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে বিভিন্ন প্রশ্ন তুললেন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, “আমি জানি ফ্লাইআডিল একটি স্বল্প খরচের এয়ারলাইন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে লো কস্ট এয়ারলাইনের খরচ লিগ্যাসি এয়ারলাইনগুলোর চেয়ে বেশি। এটি আমার কাছে একটি খুব বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা এবং আমি এটা চাই না।”
বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি গত এপ্রিলে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমানেরও চেয়ারম্যান।
বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা হিসেবে এই খাতের কোনো অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মত অংশ নিচ্ছেন জানিয়ে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, তিনি ফ্লাইআডিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এই বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন।

“কম খরচের এয়ারলাইনগুলো ফ্লাইটে এক গ্লাস পানিও দেয় না, ফ্লাইটে পানি নিলেও তার জন্য দাম দিতে হয়। তাহলে কেন আপনি টাকা নেওয়ার সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবেন না? এই টাকা কে নিচ্ছে? আমি এর (এই টাকার) ট্রেইল অনুসরণ করে সমস্যাটি সমাধান ঠিক করতে চাই।”
দেশের এয়ারলাইন্স খাতে ‘ক্রিমিনালিটি’ আছে মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ১৩ মিলিয়ন যাত্রী যাতায়াত করে। কিন্তু সক্ষমতা আছে মাত্র আট মিলিয়নের। আমাদের একটি নতুন টার্মিনাল প্রস্তুত আছে। আমরা চাই আরও বেশি সংখ্যক এয়ারলাইন্স আমাদের সাথে আসুক এবং সম্ভব হলে তাদের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়াক।
“আর এই খাতের যে অপরাধ প্রবণতা (ক্রিমিনালিটি) রয়েছে তা দূর করুক। এই শব্দটি ব্যবহার করার জন্য আমি দুঃখিত।”
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “যখন আমি সিভিল এভিয়েশনের এই দায়িত্ব নিলাম এবং এর আশেপাশে যে ক্রিমিনালিটি দেখলাম… তা আমাকে খুব, খুব দুঃখ দিয়েছে। আমি জানি, আমি যেসব পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি, তার জন্য অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন না।… কিন্তু অপ্রয়োজনীয় অপবাদ দিয়ে কোনো উদ্দেশ্যই পূরণ হবে না।”
এই খাতে ‘ইনসাফ’ ফিরিয়ে আনতে ‘যে কোন পথ অতিক্রম করতে রাজি’ বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
টাকার অভাব এবং ফ্লাইটের টিকিটের উচ্চমূল্যের কারণে প্রবাসী শ্রমিকরা যে দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে পারেন না, সেই বাস্তবতা তুলে ধরে নিজের দুঃখবোধের কথা বলেন বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, “আমি খুব দুঃখ পাই যখন দেখি আমাদের অভিবাসী শ্রমিকেরা, যারা জীবিকার জন্য তাদের পরিবারকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পিছনে ফেলে চলে যান, কিন্তু বছরের পর বছর ফিরে আসতে পারেন না। তারা ঋণ করে।
“তারা যখন সৌদি আরব বা অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশে যান, তখন তাদের পিছনে ঋণ থাকে এবং সেই ঋণ মেটাতে তাদের উপার্জনের কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। বিমান ভাড়া দিয়ে দেশে এসে প্রিয় স্ত্রী-সন্তানদের দেখার কথা তো ভুলেই যান তারা। এটা আমাকে সত্যিই ব্যথিত করে।”
ফ্রিকোয়েন্সি বাড়িয়ে হলেও বিমান ভাড়া সাশ্রয়ী করার অনুরোধ জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের জনগণের কাছে ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে আসুন, যা তাদের প্রাপ্য।”
অভিবাসী শ্রমিকেরা ‘নায্যতা পান না’ মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, “এই অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী মানুষজন, যারা পরিবার ছেড়ে থাকেন... আমি বলি যে তারা আমাদের দেশে যেন ঠিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসও নিতে পারে না। তারা এত কঠোর পরিশ্রম করছে, পরিবার ছেড়ে যাচ্ছে, ঋণ নিচ্ছে এবং আমরা তাদের সাথে যে আচরণ করি তা খুবই, খুবই দুঃখজনক। আমি সত্যিই দুঃখিত। মাঝে মাঝে আমার গলা ধরে আসে এই মানুষগুলোর যন্ত্রণার জন্য।”
ফ্লাইআডিল বুধবার থেকে ঢাকা–জেদ্দা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করছে। জেদ্দা থেকে ঢাকা ফ্লাইট (এফ–৩ ৯১১২) ছাড়বে প্রতি বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে। আর ফিরতি ফ্লাইট (এফ–৩ ৯১১৩) ঢাকা থেকে ছাড়বে দুপুর ১টায়।
এ পথটিতে প্রবাসী শ্রমিকদের পাশাপাশি হজ ও ওমরাযাত্রীদেরও পেতে চায় ফ্লাইআডিল। স্বল্পমূল্যের টিকিটের পাশাপাশি এয়ারলাইনটি ইন ফ্লাইট বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন ও অতিরিক্ত লাগেজ বহনের সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ফ্লাইআডিলের সিইও স্টিভেন গ্রিনওয়ে এবং বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সটির প্রতিনিধি (জিএসএ) এভিয়েন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান জাহান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।