Published : 22 Jan 2026, 12:09 AM
নানা আলোচনা হলেও আর কোনো অপারেটর নিলামে অংশ না নেওয়ায় ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ (স্পেক্ট্রাম) পেতে যাচ্ছে গ্রামীণফোন।
বুধবার দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় গ্রামীণফোনকে এই ব্যান্ডের ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ২৩৭০ কোটি টাকায় বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই বরাদ্দের মেয়াদ থাকবে ১৫ বছর, প্রতিবছর সমান কিস্তিতে এর মূল্য পরিশোধযোগ্য।
এ বিষয়ে বিটিআরসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিষয়টি এখন কমিশন সভায় উঠবে, কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম নিলাম কমিটি ও স্পেক্ট্রাম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় গ্রামীণফোনকে ৭০০ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আর গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেছেন, “প্রযোজ্য সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গ্রামীণফোন ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অধিগ্রহণে যোগ্য জানিয়ে বিটিআরসির একটি চিঠি আমরা হাতে পেয়েছি। এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের মান আরও উন্নত করতে এবং দেশব্যাপী গ্রাহকদের জন্য সেরা ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।”
তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের উপযোগী একটি টেলিকম ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বিটিআরসির ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের কভারেজ আরও সম্প্রসারণে, বিশেষ করে অপর্যাপ্ত সেবা প্রাপ্ত এলাকা ও ঘরের ভিতরে নেটওয়ার্কের মান আরো উন্নত করতে সহায়ক হবে এই স্পেকট্রাম। পাশাপাশি নেটওয়ার্কের দক্ষতা ও স্থিতিশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।
“আমরা দায়িত্বশীলভাবে এই স্পেকট্রাম ব্যবহার করে সেবার মান আরও উন্নত করতে এবং আমাদের ৮ কোটি ৫৬ লাখের বেশি গ্রাহকের জন্য নিরাপদ ও উদ্ভাবনী ডিজিটাল সেবা প্রদান করতে সংকল্পবদ্ধ। বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতিতে আমাদের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকাকে আরও সংহত করবে এই পদক্ষেপ।”
এর আগে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানিকে প্রায় বিনামূল্যেই ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ দেয় বিটিআরসি, ২০১৫ সালে তা বাতিলও করে। কিন্তু এরপর সেই কোম্পানি আদালতে গেলে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি বিরোধ। সে কারণে এই তরঙ্গ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই আইনি জটিলতা মিটিয়ে তরঙ্গ বরাদ্দের জন্য নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দীর্ঘ আলোচনার পর গত ২৭ নভেম্বর বিটিআরসি তাদের ওয়েবসাইটে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ২৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিলামের নির্দেশিকা প্রকাশ করে। শুরুতে নিলামের তারিখ নির্ধারিত ছিল চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি।
নিলামে প্রথমে গ্রামীণফোন ও রবি অংশ নেয়। পরে রবি তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়।
নিয়ন্ত্রণ সংস্থা নিলামের তারিখ পিছিয়ে ২১ জানুয়ারি সময়সূচি রাখে।
পরে প্রতিযোগিতাবিহীন নিলাম হতে যাচ্ছে দেখে সেখানে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। সংশোধিত নিলাম নির্দেশিকায় একক অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্পেকট্রাম বরাদ্দের সীমা কমিয়ে ১৫ মেগাহার্টজ থেকে ১০ করা হয়।
বুধবার বিটিআরসির এই স্পেকট্রামের নিলাম পরিচালনা কমিটি সভায় নিলামে একক অংশগ্রহণকারী হিসেবে গ্রামীণফোনকে ভিত্তিমূল্যে স্পেকট্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নিলাম নীতি অনুযায়ী অপারেটরটিকে সর্বোচ্চ ১০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম দেওয়া হচ্ছে। এক মেগাহার্টজের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২৩৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে ১০ মেগাহার্টজের জন্য সরকার পাচ্ছে ২৩৭০ কোটি টাকা।
নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনের পর গ্রামীণফোনকে ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হবে।
এর আগে এই নিলামে মোট ২৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম তোলার সিদ্ধান্ত হয়, কারণ ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের অবশিষ্ট ২০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম আইএসপি কোম্পানি অলওয়েজ অন নেটওয়ার্ক এর সঙ্গে আইনি বিরোধের কারণে এখন নিলামে তুলতে পারছে না বিটিআরসি।
এদিকে সম্প্রতি কয়েকদিনের ব্যবধানে আরেক ব্যান্ডে স্পেকট্রাম বরাদ্দ চেয়ে রবি ও বাংলালিংক বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে।