Published : 26 Feb 2026, 09:07 PM
সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে এখনও অনেক বেশিতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির মধ্যে খুচরা বাজারে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ভোক্তা পর্যায়ে বাজারে অনিয়ম ঠেকাতে আগামী দিন থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এলপিজির মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
সবশেষ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। তবে এ দামে কোথাও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।
এর আগে ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে সরবরাহ সংকটের কথা বলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে যখন এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল তখনও অভিযান শুরু করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। প্রশাসনের অভিযান শুরুর পর ধর্মঘটে নামে বিক্রেতারা। সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি দাম প্রায় দ্বিগুণে গিয়ে ঠেকে।
তখন আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের তরফে বলা হয়েছিল রোজার আগেই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
ওই সময় সরকারের তরফে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলপিজির বিভিন্ন স্তরে শুল্ক ও ভ্যাটে ছাড়ও দেয় সরকার। তবুও দাম এখন নাগালের মধ্যে আসেনি। ১২ কেজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এলাকাভেদে ৬০০ টাকারও বেশি নেওয়া হচ্ছে।
নতুন বাণিজ্যমন্ত্রীও বলেছেন, খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৩৫৬ টাকার চেয়ে বেশিতে বিক্রির খবর তিনি পেয়েছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে খুচরা পর্যায়ে কেউ যেন পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনকে সক্রিয় করার কথা বলেন তিনি।
দাম আবার আগের জায়গায় ফিরবে কিনা এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের জায়গায় আসবে।”
একই সঙ্গে আর বাড়বে না বলেও তুলে ধরেন তিনি।

তবে আমদানি পর্যায়ে দামের প্রশ্নে আমদানিকারদের ‘প্রাইস রিভিউ’ চাওয়ার কথা তুলে ধরে বৈঠক শেষে মুক্তাদির বলেন, “তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে যদি তাদের কথাটা সমর্থনযোগ্য হয়, বিবেচনাযোগ্য হয় তাহলে সেটাতো বিবেচনা করতেই হবে। কেউ তো লোকসান করে ব্যবসা করবে না।”
আমদানিকারকদের চাওয়া অনুযায়ী এলপিজির দাম বাড়ছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “না, এই মুহূর্তে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেই।”
এলপিজির জন্য লাইসেন্স রয়েছে ৩৩টি কোম্পানির। সেখানে ১০টি প্রায় ৭০ শতাংশের মত আমদানি করছে। বাকিগুলোকে আমদানিতে সক্রিয় করতে সরকার সহযোগিতা বা উদ্যোগ নেবে কি না- এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “একটি বিষয় হলো, ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক অপারেটর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অনেক আমদানিকারকও কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত করেছেন। এটি বাজারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তা একটি কারণ- পুরো কারণ নয়, একটি উপাদান মাত্র।
“আমদানিকারকেরা সাধারণত স্পট মার্কেট থেকে এলপিজি কেনেন, ফিউচার কন্ট্রাক্টে যান না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলে তা তাদের কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে, কখনও সক্রিয় করে, কখনও নিষ্ক্রিয় করে।
“অনেক প্রতিষ্ঠানের বড় পরিসরের অন্যান্য ব্যবসা রয়েছে। ব্যাংকের ‘সিঙ্গেল এক্সপোজার লিমিট’ তাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এসব বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এগুলো নিয়ে আমরা আগামী দিনগুলোতে কাজ করব।”
বিপিসির মজুত সক্ষমতার সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, “হ্যাঁ। অন্য বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেছেন যে এই মুহূর্তে যদি বিপিসি নিজেই আমদানি করতে চায় সেক্ষেত্রে তাদের স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করতে দেবেন। এটিকে সাধুবাদ জানাই।”
এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এসময় উপস্থিত ছিলেন।
১২৫৩ টাকার এলপিজি ১৯০০, কোথাও ২২০০; সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছেন উপদেষ্টা