Published : 27 Aug 2025, 01:35 AM
দুই বছর আগের নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ডিজিটাল ব্যাংক গঠনে নতুন শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক; যাতে কোনো কোম্পানি খুলেই লাইসেন্স পাওয়া যাবে না। তিন বছরের চলমান ব্যবসা থাকতে হবে।
নতুন নীতিমালায় দেশের কোনো ব্যাংক কিংবা ব্যাংক বর্হিভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা (স্পন্সর) হওয়ার আবেদন করতে পারবে না।
উদ্যোক্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততা নিয়ে সংশোধিত নীতিমালা বলছে, প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক স্পন্সরের ক্ষেত্রে ন্যূনতম তিন বছরের চলমান ব্যবসায় থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ওই ব্যবসায়র অব্যবহিত পূর্ববতী তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বিবেচনায় নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রকাশিত ‘ডিজিটাল ব্যাংক গাইডলাইন্স ২’ এ এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে উদ্যোক্তা বা স্পন্সর এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকের অপারেশন ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবার ডিজিটাল ব্যাংকের গাইডলাইন প্রকাশ করেছিল। সেটিই এবার সংশোধন করেছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিজিটাল ব্যাংক করতে পরিশোধিত মূলধনও বাড়ছে। আগের ১২৫ কোটি টাকা হতে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, “কোনো কোম্পানি করেই লাইসেন্স পাওয়া যাবে না। তিন বছরের চলমান ব্যবসা থাকতে হবে। তিন বছরের আর্থিক বিবেচনার ওপর সেটা মূল্যায়ন করা হবে।”
উদ্যোক্তার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সংশোধিত নীতিমালা বলছে, দেশের কোনো ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হতে আবেদন করতে পারবে না।
২০২৩ সালে ডিজিটাল ব্যাংক গাইডলাইন্সে এ নির্দেশনা দেওয়া ছিল না। তখন বেসরকারি খাতের দশটি ব্যাংক মিলে একটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় আবেদন করা হয়েছিল। সেই যৌথ উদ্যোগ আর আবেদন করতে পারবে না।
সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, ফাইন্যান্স কিংবা ব্যাংককে আলাদাভাবে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। এটা আগের দেওয়া গাইডলাইনে ছিল না। ‘ডিজি টেন’ যে আবেদন করেছিল সেটি বাতিল করা হয়েছে।
সংশোধিত নীতিমালা বলছে, ডিজিটাল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হওয়ার জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং সেবায় কমপক্ষে ৫ বছরের অভিজ্ঞতাসহ ব্যাংকিং বা ফিনটেক পেশায় কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
আগেরটিতে ছিল সিইওকে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং, ব্যাংকিং রেগুলেশন ও নির্দেশনা ইত্যাদি বিষয়ে কমপক্ষে ৫ বছরের অভিজ্ঞতাসহ ব্যাংকিং পেশায় কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার বলেন, সিইও হওয়ার ক্ষেত্রে আগের শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। কারও যদি ১০ বছর ব্যাংকে এবং ৫ বছর ফিনটেকে কিংবা ১০ বছর ফিনটেকে ও ৫ বছর ব্যাংকের অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি আসতে পারবেন।
নতুন নীতিমালা বলছে, পর্ষদে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ সদস্য প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং, উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার আইন ও রেগুলেশন বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞ সম্পন্ন হবে। অবশিষ্ট সদস্যরা ব্যাংকিং, ই কমার্স, ব্যাংকিং আইন ও রেগুলেশন, অর্থনীতি, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, সমাজ বিজ্ঞান এবং ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ইত্যাদি বিষয় পর্যাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হবেন।
এ বিষয়ে ২০২৩ সালের প্রকাশিত গাইডলাইস ভার্সন ১ এ ছিল পর্ষদে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ সদস্য প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং, উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার আইন ও রেগুলেশন বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হবেন এবং অবশিষ্ট সদস্যগণ ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং ব্যাংকিং আইন ও রেগুলেশন ইত্যাদি বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হবেন।
শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, ডিজিটাল ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন নতুন আরো কিছু বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশোধিত গাইডলাইন বলছে, কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিতে বর্তমান ঋণ খেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, ব্যক্তি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য উদ্যোক্তা হতে পারবে না। এ নিয়ে মামলা বা বিচারাধীন বিষয় যুক্ত থাকলে তারাও উদ্যোক্তা হতে পারবে না।
এছাড়া কোনো ’শেল কোম্পানি’ প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হতে পারবে না। এমন কোম্পানি বলতে এরূপ কোম্পানিকে বোঝাবে যেটি যে দেশে নিবন্ধিত সেখানে তার নিজস্ব কোনো ব্যবসা বা নিজস্ব কোনো সম্পদ নেই।
আরও পড়ুন