Published : 23 Apr 2026, 08:14 PM
বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের বন্ধ থাকা আরো ছয়টি পাটকল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
চলতি বছরেই এসব পাটকল হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বন্ধ মিল ইজারা সংক্রান্ত অংশীজনের সঙ্গে জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য দেন বলে মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বন্ধ থাকা পাটকলগুলোর অবস্থা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং অবশিষ্ট মিলগুলোতে কীভাবে দ্রুত বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়— এসব বিষয় পর্যালোচনার জন্যই এ সভা আয়োজন করা হয়।”
তার ভাষ্য, “ইতোমধ্যে কিছু পাটকল বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেগুলোতে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন, যা বেশ ইতিবাচক।”
নতুন করে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আরও ছয়টি পাটকল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
“প্রতিটি মিলেই এক হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি। এছাড়া মিলভেদে প্রায় ২০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ আসবে বলে প্রাথমিক প্রক্ষেপণ আছে।”
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী অদূর ভবিষ্যতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল মিলই পুনরায় উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে ফিরবে— কিছু পাট খাতে, আবার কিছু ভিন্ন শিল্পখাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে চালু হবে।
“ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে উঠবে।”
সভায় অন্যদের মধ্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের অধীনে থাকা ২৫টি পাটকলের কার্যক্রম ২০২০ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
পরে ২০টি মিল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ইতোমধ্যে ১৪টি কারখানা ইজারা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নয়টি মিল চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে।