Published : 31 Aug 2025, 11:30 AM
শরিয়াহভিত্তিক যে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ বা মার্জারের ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, তার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে রোববার।
এদিন এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করবেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এর ধারাবাহিকতায় আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাকি চার ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা সারতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত; উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা নামায় দর কমছেই।
ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ দেড় বছরেও আলোর মুখ না দেখার পর এখন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা পরিণতি পাবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। আগামী বছরের শুরুর দিকে জাতীয় নির্বাচনের সময় ঠিক করায় ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ টেকসই হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও।
সব দুর্বল ব্যাংক মিলে একটি ব্যাংক হবে, নাকি ব্যাংকগুলোর প্রত্যেকটিকে একটি করে সবল ব্যাংকের হাতে তুলে দেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সেই পরিকল্পনা ঠিকঠাক করতে রোববার থেকে ব্যাংকগুলোর পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোববার থেকে ব্যাংকগুলোর পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করবেন গভর্নর। প্রথম দিনে একটি ব্যাংকের পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক হবে। পর্যায়ক্রমে সবার সঙ্গে বৈঠকে হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা (অ্যাসেট কোয়ালিটি রিপোর্ট বা একিউআর) করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথাও জানানো হবে ব্যাংকগুলোকে।
এসব ব্যাংকের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও সংবাদমাধ্যমে আসা নাম নিয়ে আপত্তি করেননি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র।
একীভূতকরণ পরিকল্পনার আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হচ্ছে- এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।
সভার সূচি অনুযায়ী, গভর্নরের সঙ্গে সোমবার বৈঠক হবে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের, পরদিন হবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক। এরপর বুধবার ইউনিয়ন ব্যাংকের সঙ্গে এবং বৃহস্পতিবার গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকপ্রধান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভায় যোগ দেওয়ার আগে ব্যাংকগুলোকে পর্ষদ সভা করার করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একীভূত কোন প্রক্রিয়ায় হচ্ছে তার নীতিমালা প্রকাশ করলে বোঝা যাবে, কী হতে যাচ্ছে। বিস্তারিত জানা গেলেই বোঝা যাবে এ উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে।”
মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই!
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংক একীভূতকরণের মতো পদক্ষেপ মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে বিবেচিত।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন, পরিমার্জন, আয়ে উল্লম্ফন বা নতুন ব্যবসা চালু করার মত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগকারীদের জানাতে হয়। তবে একীভূতকরণের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখনো বিনিয়োগকারীদের জানায়নি কোনো ব্যাংক।
তবে এর মধ্যে একীভূতকরণের তথ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাংকগুলোর শেয়ার দরের ওপর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সবগুলোরই দর অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে গেছে।
এক্সিম ব্যাংকের ‘ক্ষত’ বেরোয় পটপরিবর্তনে
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কিছু দিন পরই এক্সিম ব্যাংকের দুর্দশার চিত্র সামনে আসে। অথচ গত বছরের শুরুর দিকে এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার অনিয়ম ও ঋণ কারসাজিতে ডুবতে বসা পদ্মা ব্যাংককে একীভূত করতে সম্মতি দিয়েছিলেন।
তখন তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “সব ব্যাংকই রাষ্ট্রের সম্পদ। এখন রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই তাকে রক্ষা করতে হবে।
“রক্ষার দায়িত্বটি পালন করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটিই বড় কথা, আমরা বড় ব্যাংক হিসেবে সেই দায়িত্ব নিচ্ছি।’’

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক খাতের সুবিধা নেওয়া আরেক ব্যবসায়ী চৌধুরী নাফিজ সরাফত ছিলেন পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, যার হাতে ব্যাংকটি আরও দুর্দশায় পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ভালো’ তালিকায় থাকা শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক- বেসরকারি খাতের প্রথাগত ধারার পদ্মা ব্যাংক অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল।
ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে ডুবতে বসা ফারমার্স ব্যাংক নাম বদলে হওয়া পদ্মা ব্যাংকের দায়িত্ব এক্সিম ব্যাংকের কাঁধে তুলে দিতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য ছিল, আমানত, ঋণ ও সম্পদ গুণে ‘ভালো’ অবস্থানে আছে বেসরকারি খাতের শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক। এজন্য একে দুর্বল ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এক্সিম ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির নেতৃত্বে থাকা নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রের স্বার্থে’ ও ব্যাংক খাতকে সহযোগিতা করতেই এক্সিম ব্যাংক দায়িত্বটি নিতে চায়।
সেই ‘ভালো’ ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য কতটা ‘ভালো’ তা জানা যায় পটপরিবর্তনের মাস খানেক পরই। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি লোকসান দেয় ৩ টাকা ৯১ পয়সা।
গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে লোকসান দেয় ৫৬৫ কোটি ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের শুরুর দিকের উচ্চ মুনাফা থাকায় বছর শেষে লোকসান না হলেও মুনাফা হয় মাত্র ২৬ কোটি টাকা। অথচ আগের বছরে এই পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
ব্যাংকের দেওয়া অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) মুনাফা হয় ১৮ কোটি ৮১ লাখ টাকার। আর গত ডিসেম্বর শেষে এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ শতাংশে।
এ সময়ে ৫২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ১৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে যায়। আর্থিক অবস্থা এতোটাই নাজুক হয়েছে যে, বেসরকারি ব্যাংক এশিয়া থেকে ধার হিসেবে নেওয়া ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩৮৯ কোটি টাকাই পরিশোধ করতে পারেনি এক্সিম ব্যাংক।
পাওনা আদায়ে ব্যাংক এশিয়া আদালতের দ্বারস্থ হয়- এক্সিম ব্যাংকের গুলশানের প্রধান কার্যালয়ে থাকা নিজস্ব ভবন বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। তবে ভবনে যাতে এক্সিম ব্যাংক কার্যক্রম চালাতে পারে, সেই সুযোগ দিয়েছে আদালত।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এক্সিম ব্যাংক পরে শরিয়াহ ধারার ব্যাংকিং চালু করে। ২০০৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ব্যাংকটির সারাদেশে শাখা রয়েছে ১৪৭টি। নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ২০০৭ সাল থেকে টানা ১৭ বছর ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। পাশাপাশি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসেরও (বিএবি) চেয়ারম্যান ছিলেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সেই সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে যান। তাদের একজন নজরুল ইসলাম মজুমদার পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএবি চেয়ারম্যান থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও এক পরিবার থেকে চার পরিচালক করার প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা রেখেছিলেন।
আপত্তি কেবল এক্সিম ব্যাংকের
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একীভূতকরণের সিদ্ধান্তে একমত নয় এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা থেকে বের হতে চাইছেন।
পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়া নজরুল ইসলাম স্বপন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা উন্নতির তথ্য উপস্থাপন করে সময় চাইব। এক্সিম ব্যাংক সামনে আরো ভালো করতে পারবে।’’
স্বতন্ত্রভাবে টিকে থাকতে একটি কর্মপরিকল্পনা রোববারে সভায় উপস্থাপনের ভাবনা আছে।
অবশ্য এক্সিম ব্যাংকের এমন অবস্থানের কথা জানতে পেয়ে গভর্নর আহসান মনসুর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপনকে বলেছিলেন, তারা যদি সিআরআর (নগদ রিজার্ভ অনুপাত), এসএলআর (বিধিবদ্ধ তরল স্থিতি) বাবদ ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ৮ হাজার কোটি টাকাসহ তার দায়-দায়িত্ব পরিশোধ করে, তাহলে একীভূতকরণ থেকে রেহাই পেতে পারে।

রোববার পর্ষদ সভা করবে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
পর্ষদ বদলে দেওয়ার পরে এস আলম গ্রুপের নিয়োগ দেওয়া কর্মীদের বড় অংশ ছাঁটাই করে পরিচালন খরচ কমিয়ে আনে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)। এখন তারল্য সংকট কাটানোর চেষ্টায় থাকা ব্যাংকটি মার্জারে যাবে কি না তা ঠিক করতে রোববার পর্ষদ সভা ডেকেছে ব্যাংকটি।
এসআইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যাংকের অবস্থান রোববার ঠিক হবে, বোর্ড সভার বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠকে জানানো হবে।”
ব্যাংকটির স্বতন্ত্র এক পরিচালক জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনার আলোকেই ব্যাংক চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শেয়ারধারী পরিচালকরা মার্জ না করার পক্ষে কথা বলছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত জানানো পাশাপাশি ব্যাংকের ২ ও ৮ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার হালনাগাদ ভাবনাও তুলে ধরা হবে।
কোন ব্যাংকের কী অবস্থা
আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে ব্যাংক খাতের অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারির প্রকৃত অবস্থা জানতে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আলোচিত পাঁচ ব্যাংকের তারল্য ঘাটতি, প্রভিশন পার্থক্য এবং সম্পদের মান কমে যাওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে তাদের একটি করে একিউআর (অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ) প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সেই তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরা হবে।

একিউআর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকের কাছে মোট আমানত রয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা।
এর বিপরীতে মোট ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকায। খেলাপির পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। ঋণের ৭৭ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
এর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপির পরিমাণ ৯৭.৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৬.৩৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৬২.৩ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৪৮.২ শতাংশ।
তবে ইউনিয়ন ব্যাংক এখনো ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেনি। নিরীক্ষা চলমান থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত অবস্থা হয়নি বলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির।
একীভূতকরণে সায় রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের। এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশের আর্থিক খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে মার্জার। যদি একীভূতকরণ সফল হয়, তাহলে সংকট-পীড়িত খাতটি একটি সুযোগে পরিণত হতে পারে।
“এই ব্যাংকগুলোর এখনও উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে - একসাথে তারা আবার শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
একীভূতকরণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা লাগবে বলে মূল্যায়ন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। ব্যাংকের বিপরীতে বিল ও বন্ড ইস্যু করে সরকারের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক মার্জার: ইতিহাস কী বলে
সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই ব্যাংক মার্জারের নজির রয়েছে দেশে। সর্বপ্রথম ব্যাংক একীভূত করার ঘটনা দেখা যায় ১৯৭২ সালে। আর সর্বশেষ ২০০৯ সালে।
স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (জাতীয়করণ) অধ্যাদেশ, ১৯৭২’-এর ক্ষমতাবলে পূর্ব পাকিস্তানে কার্যরত থাকা মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক, অস্ট্রেলেশিয়া ব্যাংক এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক একীভূত করে নাম দেওয়া হয় রূপালী ব্যাংক। তিন ব্যাংকের সকল দায় ও সম্পদ এক করে তৈরি হয় আজকের রূপালী ব্যাংক।
সে সময় রূপালী ব্যাংক ছিল শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানার প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৬ সালে এর ৫১ শতাংশ শেয়ার সরকারের কাছে রেখে অবশিষ্ট শেয়ার বাজারে ছেড়ে ব্যাংকটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে ব্যাংকটির ৯০ শতাংশের বেশি শেয়ার ফের সরকারের মালিকানায় রয়েছে।
১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে শিল্প খাতের বিকাশে ‘বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক’ ও ‘বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা’ নামে দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে ২০০৯ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠান দুটিকে একীভূত করে সরকার। নতুন নাম হয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।
সাবেক হাবিব ব্যাংক লিমিটেড ও সাবেক কমার্স ব্যাংক লিমিটেড এর বাংলাদেশে থাকা সব সম্পদ ও দায় সমন্বয় করে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে গঠন করা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক।
আর একই আদেশে ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড ও ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড মিলিয়ে একই বছরে গড়া হয় জনতা ব্যাংক।
সোনালী ব্যাংক গঠন করা হয় তিনটি ব্যাংক নিয়ে। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, ব্যাংক অব বাহওয়ালপুর এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক নিয়ে সোনালী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয় একই বছরে।
সুদমুক্ত শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ১৯৮৭ সালের ২০ মে আল-বারাকা ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড কার্যক্রম শুরু। ২০০৪ সালে মালিকানা পরিবর্তনে এ ব্যাংকের নাম দেওয়া হয় ওরিয়েন্টাল ব্যাংক।
৬৫০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির কারণে ২০০৬ সালে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অধিগ্রহণ করে প্রশাসক বসায় বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যাংকটির ৫২ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মালয়েশিয়ার মালিকানাধীন আইসিবি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ হোল্ডিংস এজির কাছে বিক্রি করা হয়।
২০০৮ সালে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক এর নাম পরিবর্তন করে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড রাখা হয়।