Published : 26 May 2026, 09:57 PM
ঢাকার কোরবানির পশুর হাটগুলোতে শুধু গরু-ছাগলের কেনাবেচাই নয়, জমে উঠেছে পশুখাদ্যের ব্যবসাও।
খড়, কাঁচা ঘাস, গম ও ছোলার ভুসি, ধানের কুঁড়া এবং সরিষার খৈল বিক্রি করে ভালো আয় করছেন শত শত মৌসুমি বিক্রেতা।
পশুকে সতেজ রাখতে প্রতিদিনই হাটগুলোতে লাখ লাখ টাকার পশুখাদ্য বিক্রি হচ্ছে। হাট থেকে পশু কেনার পর জবাইয়ের আগ পর্যন্ত খাবারের জোগান দিতে হওয়ায় এসব পণ্যের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।
রাজধানীর গোলাপবাগ, শনির আখড়া ও কেরানীগঞ্জের সুলতানি হাট ঘুরে পশুখাদ্য বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একজন খড় বা ঘাস বিক্রেতা প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করছেন। ঈদের আগের দিন সেই বিক্রি বেড়ে লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।
গোলাপবাগ হাটের ধলপুর মালতিলতা কাঁচাবাজারের সামনে বসেছেন কয়েকজন পশুখাদ্য বিক্রেতা। তাদের একজন দিনাজপুরের মো. আলম। সারা বছরই খড় বিক্রি করেন তিনি। কোরবানির মৌসুমে ঢাকায় এসে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা করেন।

সোমবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আলম বলেন, “আমরা দুই ভাই সারা বছর খড় বেচি। কোরবানির সময় ঢাকায় আসি। এক ভাই শনির আখড়ায় বিচালি বেচে, আমি এখানে।”
তিনি জানান, দিনাজপুর, রাজশাহী, জামালপুর ও শেরপুর থেকে খড় সংগ্রহ করে ট্রাকে করে ঢাকায় আনা হয়। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খড়ের দামও বাড়তি।
আলম বলেন, “গ্রাম থেকে কম দামে খড় কিনে আনি। কিন্তু ঢাকা পর্যন্ত ট্রাকভাড়া অনেক বেশি। হাটে জায়গার খরচও আছে। রাজশাহী থেকে এক ট্রাক খড় আনতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাগে।”
তার ভাষায়, “যে খড়ের আঁটি আগে ১৫ টাকায় বিক্রি করতাম, এবার সেটা ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।”
কোরবানির মৌসুমের আয় নিয়ে তিনি বলেন, “ঈদ শেষে দুই ভাই মিলে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরি।”
গোলাপবাগ হাটের শরিফুল ইসলাম সাগর একজন মৌসুমি বিক্রেতা। তিনি খড়ের পাশাপাশি ঘাস, কুঁড়া ও ভুসিও বিক্রি করছেন।
তিনি বলেন, “শুধু কোরবানির সময়ই বসি। পাইকারি বাজার থেকে এনে খুচরায় বিক্রি করি। শেষের দুই-তিন দিনে মোট বিক্রি লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হয়।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকারি বাজার থেকে ১৫ থেকে ২০ টাকায় প্রতি আঁটি খড় কিনে হাটে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
কেরানীগঞ্জের নদীপাড় থেকে তাজা ঘাস কেটে এনে ঘাটারচরের সুলতানি হাটে বিক্রি করেন সোহেল মিয়া।
তিনি বলেন, “ছোট আঁটির ঘাস ২০ টাকা আর বড় আঁটি ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি। দিনে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার ঘাস বিক্রি হয়ে যায়।”
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিক্রি কিছুটা কম ছিল বলে জানান বিক্রেতারা। তবে বিকালের পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে।
মঙ্গলবারও বৃষ্টির কারণে রাজধানীর কয়েকটি পশুর হাটে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। পানি-কাদায় সয়লাব হয়ে গেছে শনির আখড়ার হাট।
এ হাটের প্রবেশমুখে একটি চৌকির উপর খড় ও তাজা ঘাস নিয়ে বসেছেন মৌসুমি বিক্রেতা আমেনা খাতুন।

তিনি বলেন, “শুরুর দিকে বেচাকেনা কম ছিল। গতকাল রাতে ভালো বিক্রি হয়েছে। সকালে বৃষ্টির কারণে কম ছিল, তবে বৃষ্টি কমলে আবার বাড়বে। গরু তো উপোস থাকবে না।”
গত বছরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আমেনা বলেন, “ঈদের আগের দিন প্রায় এক লাখ টাকার বিক্রি হয়েছিল। এবারও ওরকম হতে পারে।"
হাটগুলোতে গমের ভুসি, ছোলার ভুসি, ধানের কুঁড়া ও সরিষার খৈলের চাহিদাও বেড়েছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গম বা চালের ভুসি প্রতি কেজি ৭০ টাকা, সরিষার খৈল ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং কুঁড়া ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গোলাপবাগ হাটে ছোট ছোট পলিথিন প্যাকেটে মিশ্র দানাদার খাদ্য বিক্রি করছেন রসিদুল হাসান। প্রতি প্যাকেট ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যারা একটা বা দুইটা গরু কেনেন, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা। ছোট প্যাকেটগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েকশ প্যাকেট বিক্রি হয়।”

তবে পশুখাদ্যের বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন অনেক ব্যাপারী ও ক্রেতা।
কুষ্টিয়া থেকে ১৮টি গরু নিয়ে সুলতানি হাটে আসা ব্যবসায়ী মনসুর আলী বলেন, “গত বুধবার কয়েক বস্তা বিচালি নিয়ে আসছিলাম। কয়েকদিনেই শেষ হয়ে গেছে।
“এখানে এসে ঘাস আর বিচালির জন্য অনেক বেশি দাম দিতে হচ্ছে। এলাকায় যে ঘাস ফেলে দেওয়া হয়, এখানে সেটা ৩৫-৪০ টাকা আঁটি কিনতে হচ্ছে।”