প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনীতি পুনর্গঠনের সাহসী উদ্যোগ: এমসিসিআই
বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, কর প্রশাসনের হয়রানিমুক্ত পরিবেশ তৈরি ও রাজস্ব আহরণের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর, বলছে সংগঠনটি।
নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও সরকারের বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ‘সাহসী উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।
সংগঠনটি বলছে, “সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং রাজস্ব আহরণের চ্যালেঞ্জপূর্ণ বাস্তবতায় এই বাজেট প্রণয়ন ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল দায়িত্ব।
“এ বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, কর প্রশাসনের হয়রানিমুক্ত পরিবেশ তৈরি, রাজস্ব আহরণের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর।”
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
পরদিন শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বাজেট বাস্তবায়নে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে এমসিসিআই।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য করনীতি সংস্কার, কর প্রশাসনের অটোমেশন, ‘সিস্টেম লস’ হ্রাস, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় অধিকতর গতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে করনেট সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
“আইএমএফের শর্ত পূরণে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা যেন করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি না করে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।”
করদাতাদের হয়রানি কমানোর কথা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ক্যাশলেস সোসাইটি ও ক্যাশলেস ট্যাক্স ব্যবস্থা করদাতাদের হয়রানি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কর ফাঁকি রোধে স্বচ্ছতা আনা জরুরি হলেও কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি করদাতার ব্যক্তিগত অধিকার সুরক্ষা ও জবাবদিহিতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
“তাই করদাতার ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে করের পরিধি বৃদ্ধি, সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর প্রশাসন গড়ে তোলা এবং তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় রাজস্ব আহরণ করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ।”
