Published : 15 Jun 2026, 11:26 PM
কৃষি খাতে বরাদ্দের প্রায় ৮০ শতাংশ সারের ভর্তুকিতে ব্যয় হলেও এর সুফল প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পোঁছাচ্ছে না। মাত্র ২০ শতাংশ জমির মালিক মোট ভর্তুকির প্রায় অর্ধেক ভোগ করেন।
বিশ্ব ব্যাংক প্রকাশিত ‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’স অ্যাগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের উদ্যোগে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “কৃষি খাতে সরকারি কৃষি সহায়তার বড় অংশ এখনও ধান উৎপাদনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সার ভর্তুকিই কৃষি খাতে সরকারি সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ সার ভর্তুকিতে ব্যয় হয়। এই ভর্তুকি কৃষকদের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং বাজারে দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
সার কেনার পরিমাণের ভিত্তিতে ভর্তুকি নির্ধারিত হওয়ায় শীর্ষ ২০ শতাংশ জমির মালিক মোট ভর্তুকির প্রায় অর্ধেক পান। বিপরীতে ৪০ শতাংশ জমির মালিক পান মাত্র ১৫ শতাংশ। এই বৈষম্য কমিয়ে ভর্তুকি লক্ষ্যভিত্তিক করা গেলে কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়বে বলেও মত বিশ্ব ব্যাংকের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও ভোক্তা চাহিদায় বড় পরিবর্তন ঘটছে। মানুষের খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এসব খাতে আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি।”
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, “কৃষি খাদ্য ব্যবস্থায় গুণগত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি ব্যয় পুনর্বিন্যাস বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে।

“প্রতিবেদনে কৃষি খাতে বরাদ্দ ও ব্যয়ের কাঠামো, সারের ভর্তুকি, মাটির স্বাস্থ্য, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সারের বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ, বাজার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, উচ্চমূল্যের ফসল চাষ, ফল ও সবজি উৎপাদন, বন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।”
গবেষণায় কৃষি-খাদ্য খাতে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য প্রণীত বিশ্ব ব্যাংকের সুপারিশগুলো সরকার নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কৃষি একটি কেন্দ্রীয় খাত।
“কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সার সরবরাহ ও দামের অস্থিরতা বিদ্যমান নীতি এবং ব্যয় কাঠামোর দুর্বলতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে।”
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের সহলেখক মনসুর আহমেদ বলেন, “সার ভর্তুকির নকশা ও বিতরণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং প্রয়োজন রয়েছে এমন কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”