১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ঋণনির্ভর’ বাজেটের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য পূরণ না হলে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Jun 2026, 09:37 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:26 PM

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা, ঘাটতি অর্থায়নের কৌশল এবং ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হলেও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। 

এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা, ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতি এবং ঋণনির্ভর অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে রুমিন বলেন, “অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং কৃষিপণ্যের উপর উৎসে কর কমিয়েছেন। ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ এবং ১ শতাংশ হারে যেটা উৎসে কর ছিল, সেটাকে উনি ০.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন।”

এরপর বাজেটের আকার ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি কাল্পনিক উদাহরণ দেন তিনি। রুমিন বলেন, “একজন সংসদ সদস্য, উনার নাম ধরে নিলাম মফিজ। সেই বেচারার মাসে বেতন ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এর বাইরে তার কোনো গার্মেন্ট ব্যবসা নাই, কোনো ইয়াবা ব্যবসা নাই, কোনো অস্ত্রের ব্যবসা নাই, কোনো অবৈধ ব্যবসা নাই। কিন্তু তার স্বপ্ন, ঢাকা শহরে তিন একর জায়গার ওপরে প্রাসাদোপম বাড়ি করে সামনে একখানা সুইমিং পুল নিয়ে ও সেখানে হরিণ এবং ম্যাকাও পাখি পুষবার।

“তার এই ১ লাখ ৭৬ হাজার সৎ পয়সার টাকায় কি ঢাকা শহরে তিন একর জায়গায় প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করা সম্ভব? সম্ভব নয়। ঠিক একইভাবে যখন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আসে, তখন আমরা বুঝতে পারি, এই বাজেটটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে। বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)।

“এপ্রিল পর্যন্ত যে এনবিআর ৩ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় করতে পারেনি। সেই এনবিআরকে যদি আমরা ৬ লাখ কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব দিই, সেটা কীভাবে সম্ভব, আমার মাথায় ঢোকে না।”

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য পূরণ না হলে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার সমালোচনা করে রুমিন বলেন, “যাদের অর্থনীতির ব্যাপারে ন্যূনতম ধারণা আছে, তারা বুঝতে পারবে, সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে ব্যক্তি খাতে ঋণের পরিমাণ অটোমেটিক্যালি কমে যায়।”

অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “অর্থনীতি যে গর্তে পড়েছে, সেখান থেকে তুলবার জন্য বিনিয়োগ ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনো রাস্তা নাই।”

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ঋণপ্রাপ্তির সমস্যা এবং উচ্চ সুদের কারণে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মূল্যস্ফীতি ও করব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলে রুমিন বলেন, “করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হলেও মাসে ৩২ হাজার টাকা আয় করা একজন ব্যক্তি বার্ষিক আয়ের হিসাবে করের আওতায় পড়ে যাবেন। যে ব্যক্তি ৩২ হাজার টাকা মাসে ইনকাম করেন, তাকে কি বাংলাদেশের এই ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সময় কোনোভাবেই, এমনকি মধ্যবিত্তের কাতারেও ফেলা যায়?”

এছাড়া কর ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ করের পরিবর্তে এখনও পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভরতার সমালোচনা করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের বিষয়েও। 

রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনী এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরেন।