১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বেঁচে আছি গল্পটা বলবো বলে’: গাবিতোর গল্প

রুবু মুন্নাফ

Published : 06 Feb 2018, 08:48 AM

Updated : 23 Jun 2022, 11:12 PM

বিশ্ব সাহিত্য একজন মহান লেখকের আর্বিভাব লক্ষ্য করে পঞ্চাশের দশকে। কলম্বিয়ার একজন সাধারণ সাংবাদিক থেকে কিভাবে বিশ্ব মঞ্চে আলো ছড়ান তা পরবর্তী কয়েক দশক প্রত্যক্ষ করে। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে খ্যাতিমান লেখকদের অন্যতম।

'বেঁচে আছি গল্পটা বলবো বলে' লেখকের আত্মজৈবনিক আখ্যান। কলম্বিয়ার জীবন-যাপন আর প্রাকৃতিক নৈসর্গের সুন্দর বর্ণনা উঠে এসেছে। লেখকের শৈশব, কৈশরের দূরন্তপনা আর যাপিত জীবন ফুটে উঠেছে। তার বাবা-মায়ের শ্বাসরুদ্ধকর প্রেম কাহিনী তিনি চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। এগারোটি ভাই বোনের সংসারের অভাব অনটনের কথা অবলীলায় বলে গেছেন। তার সাংবাদিক জীবনের খুঁটিনাটি বেশি পরিমাণে বর্ণনা করেছেন। আর কলম্বিয়ার চিরাচরিত রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের কথা তুলে ধরতে কার্পণ্য করেননি।

.

বইটি মূলত লেখকের লেখক হয়ে ওঠার স্মৃতিকথা। তবে পারিবারিক বন্ধনের যে চমৎকার বর্ণনা তিনি দিয়েছেন তা শ্বাশত বাঙালির চিত্র। শত কষ্টেও পরিবারের ভরণ-পোষণের টাকা পাঠাতে ভুলতেন না। যদিও পরিবারের মতকে অগ্রাহ্য করে তিনি তার লেখাপড়া বাদ দিয়েছিলেন, যা তার লেখক হয়ে উঠার প্রস্তুতিপর্ব ছিল। এখানে খেদ বলতে গেলে গাব্রিয়েল তার ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার আগ পর্যন্ত কাহিনী বলেছেন, তার খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছানোর কোন কিছুই উল্লেখ করেননি।

তপন শাহেদের অনুবাদ সুখপাঠ্য হয়েছে। চারশ পৃষ্ঠার বইটি একটানা পড়তে পারলে ধারাবাহিকতা থাকবে। না হয় পাঠকের মৃত্যু হতে পারে।

রুবু মুন্নাফ
দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা