মান যাচাই করলে টিকবে সর্বোচ্চ ৫০০ রিক্রুটিং এজেন্সি: নুরুল হক নুর
“আমরা চেষ্টা করছি যে, বিশেষ করে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে একটা ক্যাটাগরির মধ্যে নিয়ে আসতে।”
দেশে প্রায় তিন হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও কাজের মান ও দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে গ্রেডিং করা হলে সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৫০০টি কোম্পানি টিকে থাকতে পারে বলে মনে করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
মঙ্গলবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সোনার মানুষ সম্মিলন’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মনোভাব প্রকাশ করেন। অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে তো দেশেই তো কিছু সিলেক্টেড রিক্রুটিং এজেন্সি থাকে, যারা সেটার জন্য রেসপন্সিবল থাকে; যে তারা কোন কাজে যাচ্ছে, তাদের বেতন কত, তাদের কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে—এটা তো তারা বলে নেয়।
“কিন্তু বাংলাদেশের অনেকগুলো রিক্রুটিং এজেন্সি, যাদের অনলাইনে যেটা আমাদের ডিজিটাল সিস্টেম, ‘বোয়েসেল’—যেটার মাধ্যমে মূলত ডিমান্ড লেটার, অ্যাটেস্টেশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যায়। এবং যেটা লঞ্চিংয়ের ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড হেল্প করেছে, আইওএম হেল্প করেছে—এজন্য তাদেরকে স্পেশাল থ্যাংকস জানাই।”
নুরুল হক নুর বলেন, “কিন্তু আমাদের এই অনলাইন প্রক্রিয়া থাকার পরেও দেখা যায় অনেক এজেন্সি, তারা নানা ধরনের অনিয়মের সাথে ইনভলভ থাকে, তাদের ওটা লক করে দেওয়া হয়। তারা গিয়ে কোর্টে গিয়ে, কেউ পেছনের লোক ধরে আবার তাদের ব্যবসাটা শুরু করে। এবং তারা এই ধারাবাহিক অনিয়মটা কিংবা প্রতারণাটা করেই যাচ্ছে।
“আমরা চেষ্টা করছি যে, বিশেষ করে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে একটা ক্যাটাগরির মধ্যে নিয়ে আসতে। বাংলাদেশে প্রায় তিনহাজারের মতো রিক্রুটিং এজেন্সি আছে, তিন হাজার প্লাস। তো আমার ধারণা যে, এটাকে যদি একটা গ্রেডিং করা হয়, তাদের পারফরমেন্সের ভিত্তিতে খুব বেশি টিকবে না। তার মানে আমি বলতে চাই না, সংখ্যাটা একেবারেই ৩-৪শ কিংবা ৫০০ হাইয়েস্ট হতে পারে।“
প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা সহজীকরণ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠালে এখন যে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হয়, প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য আমরা তা ৩ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছি।”
প্রবাসী কার্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নুর বলেন, “জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই স্পেশাল কার্ডের ট্রায়াল ফেজ চলছে।
“যা একদিকে এটিএম কার্ড হিসেবে লেনদেনে ব্যবহৃত হবে এবং অন্যদিকে দেশে সরকারি-বেসরকারি সেবা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করবে।”
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের ওপর ভিত্তি করে দেশে নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান বা ঘরবাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে আমরা ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেব।”
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম নিল অ্যাডজার।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডিয়েপাক এলমার, বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ দিলীপ রাথা, রামরুর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চৌধুরী রফিকুল আবরার।
