Published : 25 Jul 2023, 08:16 PM
নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কাজটি যে কেবল ভোটের দিনের বিষয় নয়, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি এমন গিলমোর বলেছেন, ভোটের পূর্বাপর সার্বিক পরিস্থিতিও এখানে দেখতে হয়।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।
গিলমোর বলেন, “যখন আমরা নির্বাচন দেখি, তখন কেবল ভোটের দিনে কী হল তা দেখি না, বরং ভোটের আগের পরিবেশও দেখি।
“কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থা কী, রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবেশ কতটা আছে, গণমাধ্যমের পরিস্থিতি কেমন, নির্বাচন আয়োজনের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত বিষয়গুলোও পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি পাঠাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে একটি অগ্রবর্তী অনুসন্ধানী দল বাংলাদেশ সফর করে গেছে। তারা ফিরে যাওয়ার পরদিন সোমবার ঢাকায় এসেছেন এমন গিলমোর।
মঙ্গলবার সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠকের পর যৌথ ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ইইউ’র বিশেষ প্রতিনিধি আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে গিলমোর বলেন, “আমরা জানি নির্বাচন এগিয়ে আসছে এবং আমরা চাই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেই নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে হোক।”
মানবাধিকার শক্তিশালী করার আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরার কথা জানিয়ে গিলমোর বলেন, “সরকার ওই আইন সংশোধনের পরিকল্পনা করছে এবং সরকার ইইউর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। ওই সংশোধনী যাতে প্রস্তুত হয়, আমরা সেই প্রতীক্ষায় আছি।”
ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও মানবাধিকার পরিস্থিতি বিবেচনা থাকছে জানিয়ে তিনি বলেন, “পণ্য কেমন পরিস্থিতি থেকে আসছে, এ বিষয়ে ভোক্তারাও খুব সচেতন। আর বিনিয়োগকারীরাও মানবাধিকারের পরিবেশ নিয়ে বেশি সচেতন।
“আমি মনে করি, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একসঙ্গে কাজ করা দরকার, যেখানে ব্যবসায় ও মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানবাধিকারের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।”
নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত ও অবাধ পরিবেশের বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা জানান গিলমোর।
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলেও সব দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি বৈঠকে ওঠেনি বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছি। না, কীভাবে অন্য দলগুলোকে নির্বাচনে আনা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়নি। আমাদের স্পষ্ট অবস্থান হল, এটা তাদের (রাজনৈতিক দলগুলোর) নিজেদের বিষয়।
“অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমাদের প্রতিশ্রুতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি আমরা পুনর্ব্যক্ত করেছি। নির্বাচনের সময় সরকার পরিচালিত হবে নির্বাচন কমিশনের দ্বারা। এ বিষয়টি তারা পুরোপুরি অবগত।”
প্রাক-নির্বাচনী অনুসন্ধানী দলের দীর্ঘ সফরের পর নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্যক অবগত বলেও জানান শাহরিয়ার আলম।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে কাজ করছি। তাদের একজন বিশেষজ্ঞের সুপারিশমালা আমরা আইন মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি।”