Published : 08 Dec 2023, 07:39 AM
ঢাকা-১৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর আয় পাঁচ বছরে বেড়েছে ১২ শতাংশ, আর তার স্ত্রীর সম্পদ এই সময়ে বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ।
২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ইলিয়াস মোল্লাহ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় বার্ষিক ২ কোটি ৭৫ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৪ টাকা আয় দেখিয়েছিলেন।
পাঁচ বছর পর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জমা দেওয়া তার হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ১৩৭ টাকা।
তার স্ত্রীর নামে ৫ কোটি ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ১৯৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে এবারের হলফনামায়। একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় এর পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৯ লাখ ২ হাজার ৬৭১ টাকা।
টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লাহ ফের নৌকার প্রার্থী হয়েছেন। তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় ইলিয়াস মোল্লাহর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ১১ লাখ ৮১ হাজার ৮৭২ টাকা দেখানো হলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ৯ কোটি ৫৯ লাখ ৮২ হাজার ২৫২ টাকা।
গত নির্বাচনের সময় তার স্ত্রীর কোনো নগদ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো টাকা জমার তথ্য ছিল না।
এবার স্ত্রীর হাতে নগদ ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৩৬০ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৪৬ লাখ ৪৮ হাজার ২৪৭ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর বাবদ ২১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা, ১৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকার ৩২ ভরি সোনার গয়না, ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার ২১টি ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র থাকার তথ্য এসেছে হলফনামায়।
ইলিয়াস মোল্লাহর স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে ১১ দশমিক ৯৭ শতাংশ অকৃষি জমি যার মূল্য ১ কোটি ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৬ টাকা। একটি আবাসিক ভবন আছে, যার দাম ১ কোটি ৫৭ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫২ টাকা।
গতবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকার একটি গাড়ি, ১০ ভরি স্বর্ণ, ৫ হাজার টাকার আসবাব এবং স্থাবর সম্পদ হিসেবে ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭১ টাকার বাড়ির কথা উল্লেখ করেছিলেন।
এইচএসসি পাস ইলিয়াস মোল্লাহর আয়ের বড় অংশ আসে ব্যবসা, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকান ভাড়া, বেতন-ভাতা ও শেয়ার-সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত থেকে।
তিনি ব্যবসা থেকে বার্ষিক ২ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৮১ টাকা, বেতনভাতা থেকে ২৩ লাখ ৩ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ব্যাংক সুদ থেকে ৪১ হাজার ৪৫৬ টাকা আয় দেখিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় ৩ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ১৩৭ টাকা।
ইলিয়াস মোল্লাহর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকার পরিমাণ সামান্য কমেছে। এবার তার নগদ টাকা দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪ লাখ ৪৩৮ টাকা। পাঁচ বছর আগে একাদশ সংসদ নির্বাচনে এর পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২৪ লাখ ২ হাজার ৬৮০ টাকা।
এবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা আছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯৯ টাকা। গত নির্বাচনের সময় ছিল ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭ হাজার ৯২১ টাকা।
এছাড়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি ৭ লাখ ২ হাজার ৯৮৬ টাকার এফডিআর, চারটি গাড়ি ও ৬০ ভরি স্বর্ণের উল্লেখ করেছেন। গত নির্বাচনে গাড়ি ও স্বর্ণের পরিমাণ একই থাকলেও এবার এফডিআর যোগ হয়েছে।
এবার স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৬৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫২০ টাকার কৃষি জমি, ৪ লাখ ৭০ হাজার ৪৭৪ টাকার অকৃষি জমি, ৩ কোটি ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮৩ টাকার একটি আবাসিক ভবন, ১ কোটি ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার ২৫৯ টাকার বাণিজ্যিক ভবন এবং ৮০ লাখ ৪১ হাজার টাকার অ্যাপার্টমেন্ট থাকার তথ্য দিয়েছেন ইলিয়াস মোল্লাহ।
গতবারের নির্বাচনের হলফনামায় তিনি ৪ দশমিক ৭৮ কাঠার অকৃষি জমি (দাম উল্লেখ নেই), ৬৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫২০ টাকার ৩১ বিঘা ২৭ শতাংশ কৃষি জমি এবং ৭ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার ৩৫২ টাকার দালানের উল্লেখ করেছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের আয়ের উৎস, পেশা, মামলা, দায়-দেনাসহ হলফনামায় ৮ রকমের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল বিধান রয়েছে।