Published : 01 Mar 2024, 06:24 PM
বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৬ জনের মধ্যে থেকে ৪০ জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত ওই ৪০ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ঢাকা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “৪৬টি লাশের মধ্যে ৪০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাদের সবাইকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ছয়টি লাশের মধ্যে তিনটি লাশ শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। তবে তিনটি লাশ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
অশনাক্ত লাশের মধ্যে এক নারী ও শিশুর মরদেহের দাবি নিয়ে কেউ আসেনি বলে জানিয়েছেন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা মেজিষ্ট্রেট একেএম হেদায়েতুল ইসলাম।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকেমকে তিনি বলেন, “আমরা অনুমান করছি তারা মা-মেয়ে। চেহারা একইরকম। তাদের কোনো দাবিদার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।”
এদিকে পুড়ে অঙ্গার হওয়া যে লাশগুলো চেনা যাচ্ছে না, তাদের মধ্যে দুইজনের দাবি নিয়ে মর্গে এসেছেন স্বজনেরা।
তবে ওই দাবিদারদের লাশ না দিয়ে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঢাকার অতিরিক্ত জেলা মেজিষ্ট্রেট হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, “দুজনকে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের দাবিদারদের ডিএনএ করার পর লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
যে দুজনের লাশের দাবি করা হয়েছে, স্বজনেরা তাদের নাম বলেছে- এ কেএম মিনহাজ (২৪) ও অভিশ্রুতি শাস্ত্রী (২৫)।
এদিকে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও মাত্র চারজনের পরিবার সেই অর্থ নিয়েছে বলে জানান হেদায়েতুল ইসলাম।
“৩৪ জনের দাফন, কাফনসহ আনুষঙ্গিক খরচের জন্য টাকা নিতে বলা হলেও তারা স্বাবলম্বী জানিয়ে সেই অর্থ নেননি। এছাড়া আহত হয়ে যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আহত এরকম ১৩ জনকে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে আগুন লাগে। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ছিল বিরিয়ানির পরিচিত খাবার দোকান ‘কাচ্চি ভাই’ এর শাখা, পোশাকের ব্র্যান্ড ইলিয়েন, নিচের তলায় স্যামসাং এর শোরুমসহ আরও বেশ কিছু দোকান।
স্যামসাংয়ের শোরুমের পাশে রয়েছে একটি কফি শপ। এরকম কফির দোকানসহ ফাস্টফুডের অনেকগুলো দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে ভবনটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।
প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিভিয়ে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। এরপরই আসতে থাকে একের পর এক মৃত্যুর খবর।
আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আটজন ভর্তি আছেন। বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি আটজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।