০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকার পথে কোম্পানিভিত্তিক বাস: ব্যর্থতার চক্র এবার ভাঙবে?

কর্তৃপক্ষের দাবি, এবার আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। তবে বাসের মান, চালকদের নিয়োগ, ই-টিকিটিং, বিআরটিসির ভূমিকা এবং কার্যকর তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাখাওয়াত সুপন কৌশিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Nov 2026, 09:22 PM

Updated : 04 Nov 2026, 09:22 PM

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত এক দশকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত টেকেনি। সেই অভিজ্ঞতার পর একইসঙ্গে সংশয় আর আশা নিয়ে বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস চলাচল শুরু হয়েছে ঢাকায়।

প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি সাধারণ ও একটি চক্রাকার—মোট সাতটি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল চালু হয়েছে। সাতটি পরিবহন কোম্পানির অধীনে এসব রুটে চলবে ৮৬১টি বাস।

রোববার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন নেতারা বলতে চাইছেন, এবারের উদ্যোগ কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প নয়। সব পক্ষের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখান থেকে ‘পেছনে ফেরার সুযোগ নেই’।

তবে যাত্রীদের কাছে উদ্বোধনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এর বাস্তব প্রয়োগ। সড়কে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করা, নির্দিষ্ট বিরতিতে বাস পাওয়া, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত না হলে নতুন ব্যবস্থার সুফল মিলবে না বলেই তাদের ভাষ্য।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাদের মতে, এটি টেকসই করতে চালকদের বেতনভিত্তিক নিয়োগ, ই-টিকিটিং, মানসম্মত বাস, সমান্তরাল অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তদারকির জন্য আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

ব্যর্থতা ভুলে নবযাত্রা

ঢাকার গণপরিবহনে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ ছিল স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানে (এসটিপি)। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক।

তখন ঢাকার বাস চলাচলের রুটগুলো আট ভাগে ভাগ করে প্রতিটি রুটে আলাদা রঙের বাস চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে আনিসুল হকের মৃত্যুর পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়।

পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নেতৃত্বে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এতে ২৪৬টি বাস কোম্পানিকে একীভূত করে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি কোম্পানি গঠন এবং ২৭৮টি রুট পুনর্বিন্যাস করে ২২টি রুট নির্ধারণের উদ্যোগ ছিল।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঘাটারচর-সাইনবোর্ড রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ চালু করা হয়। কিন্তু অন্য বাস কোম্পানিগুলোকে এই ব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়নি। ফলে একপর্যায়ে সেই উদ্যোগও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাস রুট রেশনালাইজেশনের কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাসমালিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাড়া মেলেনি।

এরপর বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে একাধিক বৈঠক করেন। এর ধারাবাহিকতায় সাতটি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হল।

‘পেছনে ফেরার সুযোগ নেই’

ঢাকার ৩২টি রুটের প্রতিটির জন্য আলাদা রঙের বাস নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে শিমুল বিশ্বাস রোববার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “আজ শুধু ফটোসেশন করলাম আর পরে বন্ধ হয়ে যাবে, এমনটা হবে না।”

অতীতে পরিবহন খাতের প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে সরকারগুলো চাইলেও সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই রাজনীতিবিদ।

অনুষ্ঠানে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, “এ কার্যক্রম কোনো পাইলট প্রজেক্ট নয়, এটি চূড়ান্ত বাস্তবায়ন এবং এখান থেকে পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।”

নতুন ব্যবস্থার বিরোধিতা করে সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে রাখলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাসমালিকদের একাংশের আপত্তি এবং অতীতের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতার বিষয়ে প্রশ্ন করলে মসিউর রহমান স্বীকার করেন, বিরোধিতার পাশাপাশি নানা আপত্তি রয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকলেও এবার তারা ‘থামবেন না’।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক-অ্যাডমিন অ্যান্ড রিসার্চ) মো. জাকির হোসেন সুমন বলেন, এবারের উদ্যোগের একটি বড় পার্থক্য হল, রুট নির্ধারণের আগে ডিটিসিএ, ডিএমপি, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে।

তার ভাষ্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং মালিক-শ্রমিকদের সম্মতিতে যৌথভাবে রুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেতনভিত্তিক চালক, ‘ওয়েবিল’ থেকে ই-টিকিটিং

নতুন ব্যবস্থায় চালকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে বেতনভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাসমালিক ও শ্রমিক সমিতির কাছে এ প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

এ ছাড়া ৩২টি রুটের বাসে আলাদা রং, রুট নম্বর ও ডিজিটাল বোর্ড যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মসিউর রহমান বলেন, নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া বাস থামানো কিংবা ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে চালুর আগে অনুমোদিত সব বাসের ফিটনেস যাচাই করা যে সম্ভব হয়নি, তা স্বীকার করেছেন তিনি।

স্বল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু সম্ভব পরীক্ষা করা হয়েছে জানিয়ে এখন আরও ভালোভাবে যাচাইয়ের কথা বলেছেন মসিউর রহমান।

এদিকে শুরু থেকেই ই-টিকিটিং চালু হচ্ছে না। আপাতত ‘ওয়েবিল’ পদ্ধতিতে যাত্রী গণনা করা হবে। পরে ধাপে ধাপে কাউন্টার ও ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহমেদ খোকন বলেন, নির্দিষ্ট বিরতিতে বাসের সুপারভাইজার উঠে যাত্রীসংখ্যা ওয়েবিলে লিখে রাখবেন। এ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হওয়ার পর ই-টিকিটিংয়ে যাওয়া হবে।

যাত্রীরা চান নিয়মের বাস্তব প্রয়োগ

বারবার উদ্যোগ নেওয়ার পরও তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে নতুন ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে যাত্রীদের মধ্যে। তবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে ভোগান্তি কমার প্রত্যাশাও করছেন তারা।

বেসরকারি চাকরিজীবী রাকিব হাসান বলেন, বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও যাত্রী তোলার জন্য টানাটানি বন্ধ হওয়া দরকার। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা ঠিকভাবে চালু হলে যাতায়াতে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে।

এনজিওকর্মী রওনক রুমিনের প্রত্যাশা, নির্দিষ্ট বিরতিতে বাস পাওয়া গেলে অফিসে যাতায়াতে সময় বাঁচবে। এখন বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, আবার বাসগুলো কিছুক্ষণ পরপর থামে।

আব্দুল কাদের তরফদার নামের এক যাত্রী বলেন, বাসের নাম বা পরিচালনাপদ্ধতি বদলালেই দুর্ভোগ কমবে না। সময়মত বাস পাওয়া, নির্ধারিত ভাড়া এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই মূল বিষয়।

অন্য যাত্রীরাও মনে করেন, নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানো এবং নিয়ম ভাঙলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নতুন উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাবে না।

বিআরটিসির বাস কি ফ্র্যাঞ্চাইজির বাইরে থাকবে?

বেসরকারি বাসগুলোকে কোম্পানির অধীনে আনার উদ্যোগ চললেও রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসগুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. শামসুল হক।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের এই অধ্যাপকের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে শুরুতেই বিআরটিসির বাসগুলোকে এর আওতায় আনা উচিত ছিল।

তার আশঙ্কা, সরকারি অর্থে কেনা বাস লিজের মাধ্যমে পরিচালিত হলে বেসরকারি বাসমালিকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অসমতা তৈরি হতে পারে। সরকারি বাস যদি ফ্র্যাঞ্চাইজির বাইরে থেকে আগের মত যাত্রী তোলে, তাহলে নতুন ব্যবস্থার ব্যবসায়িক কাঠামোও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে বিআরটিসির পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) রাহেনুল ইসলাম বলেন, ধীরে ধীরে বিআরটিসিও ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও ডিটিসিএ সমন্বয় করে রুট বণ্টন করবে।

তিনি বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজির আওতাভুক্ত রুটে বিআরটিসির বাস এখন আংশিকভাবে চলবে, পুরোপুরি নয়।

টেকসই করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু বাস কোম্পানিগুলোকে একীভূত করলেই গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে না। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে কার্যকর পরিচালনা, প্রযুক্তিনির্ভর ভাড়া আদায়, মানসম্মত বাস এবং নিয়মিত তদারকি।

শামসুল হক বলেন, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার সঙ্গে প্রচলিত লিজ পদ্ধতির মৌলিক পার্থক্য হল, এখানে চালকরা বেতনভিত্তিক কাজ করবেন। যাত্রীপ্রতি আয় বাড়ানোর ওপর তাদের ব্যক্তিগত উপার্জন নির্ভর করবে না।

এ ব্যবস্থায় সফটওয়্যারনির্ভর ভাড়া আদায় গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রী বাসে ওঠার আগেই ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভাড়া পরিশোধ করবেন। সেই অর্থ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যাংকে জমা হবে এবং মালিকদের মধ্যে তাদের অংশ অনুযায়ী বণ্টন করা হবে।

তবে শুধু বেতনভিত্তিক নিয়োগ করলেই চালকদের আচরণ বদলাবে না। তাদের দায়িত্ব ও কাজের মান নিশ্চিত করতে কার্যকর কর্মপরিচালনা ও জবাবদিহি থাকতে হবে বলে মনে করেন শামসুল হক।

ঘাটারচর-সাইনবোর্ড রুটের আগের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পেছনে বাসের নির্ধারিত সময়সূচি বজায় না রাখা এবং পাশাপাশি অন্য বাস চলার বিষয়টি তুলে ধরেন এই বিশেষজ্ঞ।

তার মতে, নতুন ব্যবস্থার পাশাপাশি একই রুটে অনিয়ন্ত্রিত বাস চলতে থাকলে যাত্রীরা সেসব বাসে উঠে পড়বেন। প্রধান বাস চলাচলের সড়কগুলো থেকে ইজিবাইক সরানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

তদারকির দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে শামসুল হকের। তার মতে, কয়েকজন কর্মকর্তা দিয়ে পুরো ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার নিয়মিত তদারকি সম্ভব নয়। এ জন্য মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ও নিবেদিত একটি গণপরিবহন ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন।

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান এবারের উদ্যোগের একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন।

তার মতে, আগের ফ্র্যাঞ্চাইজি উদ্যোগগুলোতে একই রুটে অন্য বেসরকারি বাস চলাচল করত। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজির বাসগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। এবার নির্ধারিত রুটে একটি নির্দিষ্ট সেবার বাস চলার পরিকল্পনা থাকায় পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।

তবে বাসের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আদিল মুহাম্মদ খানের। তার মতে, তুলনামূলক দুর্বল ও পুরোনো বাস দিয়ে এই ব্যবস্থা শুরু না করে অন্তত একটি রুটে ১০০টি মানসম্মত এসি বাস, সুবিধাজনক টিকিটিং ব্যবস্থা ও বাস্তবসম্মত স্টপেজের মাধ্যমে ভালো সেবার দৃষ্টান্ত তৈরি করা যেত।

অন্যদিকে, বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সোশাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম তালুকদার বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ টেকসই করতে হলে সম্ভাব্যতা যাচাই, জরিপ ও গবেষণার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। যাত্রীদের মতামতও নিতে হবে।

তার কথা হল, পরিবহন ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগির ব্যবস্থা থাকতে হবে। সরকারকে বাস পরিবহনকে শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে লোকসানের ক্ষেত্রে ভর্তুকি বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে।