গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাকি পাঁচজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
Published : 18 Jul 2023, 06:12 PM
ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে দুইজনকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।
বনানী থানায় মামলা দায়ের করা এ মামলায় গ্রেপ্তার বাকি পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সাতজন হচ্ছেন- বনানীর ছানোয়ার কাজী (২৮), মাহমুদুল হাসান, মেহেদী (২৭), আশিক সরকার (২৪) ও হৃদয় শেখ (২৪), পল্লবীর বিপ্লব হোসেন (৩১), তেজগাঁও শিল্প এলাকার মুজাহিদ খান (২৭) এবং খিলক্ষেতের সোহেল মোল্লা (২৫)।
এদের মধ্যে ছানোয়ার কাজী ও বিপ্লব হোসেনকে মামলার তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপ-পরিদর্শক নূর উদ্দিন। অপর পাঁচ আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি।
শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম আরফাতুল রাকিব ছানোয়ার ও বিপ্লবের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে বনানী থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক জালাল উদ্দীন এসব তথ্য জানান।
গত সোমবার উপ-নির্বাচনের শেষ দিকে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে হামলার শিকার হন হিরো আলম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দিতে স্কুলের মাঠে কয়েকজনের সঙ্গে সেলফি তোলেন এ স্বতন্ত্র প্রার্থী। তখন হামলাকারীদের কয়েকজন এসে তাকে ঘিরে ধরেন এবং বলেন, ‘এটা টিকটক ভিডিও বানানোর জায়গা না।’
এরপর তারা হিরো আলমকে ধাওয়া শুরু করেন। তখন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা হিরো আলমকে ঘিরে ধরে স্কুলের গেইটের দিকে নিয়া যান।
ভিডিওতে দেখা গেছে, স্কুলের থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা কেন্দ্রে ফিরে যায়।
আর এ সুযোগে ধাওয়াকারীরা হিরো আলমকে ধাক্কা দিয়ে সড়কের ওপর ফেলে দিয়ে একতারা প্রতীকের প্রার্থীকে লাথি ও কিলঘুষি মারতে থাকেন। সেখানে ধস্তাধস্তিও চলে। নৌকার ব্যাজ পরা হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে লাঠিসোঁটাও ছিল। মারধরের মুখে দৌড়ে পালান হিরো আলম।
পরে তিনি রামপুরার বেটার লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরেন।
মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৫/২০ জনকে আসামি করে বনানী থানায় মামলা করেন হিরো আলমের ব্যক্তিগত সহকারী মো. সুজন রহমান শুভ।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে হিরো আলমকে আক্রমণ করে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে। মারধরের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে থেকে অজ্ঞাতপরিচয় একজন হত্যার উদ্দেশ্যে হিরো আলমের কলার চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে।
এদিন সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশিদ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, হিরো আলম মামলা করার আগেই এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভিডিও দেখে আর যারা জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাও চলছে বলে তিনি জানান।
হিরো আলমের ওপর হামলায় গ্রেপ্তার ৭
হিরো আলমের ওপর হামলায় মামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
হিরো আলমের ওপর হামলায় জাতিসংঘের উদ্বেগ
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে হিরো আলম প্রসঙ্গ
এই সরকারের অধীনে আর ভোটে যাব না: হিরো আলম