‘ভারতীয়’ নাগরিকের বাংলাদেশি পাসপোর্ট, অভিযোগপত্রে আসামি ৭

“তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিলের জন্য আমরা অনুমোদন দিয়েছি। শিগগিরই এই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে” বলেন দুদক কমিশনার।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 01:24 PM
Updated : 13 Sept 2022, 01:24 PM

পুলিশ প্রতিবেদন গোপন করে ‘ভারতীয়’ এক নাগরিককে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার অভিযোগে পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মকর্তাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক।

মঙ্গলবার কমিশন থেকে এই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয় বলে সংস্থাটির কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক সাংবাদিকদের জানান।

কমিশনার বলেন, “এক মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিলের জন্য আমরা অনুমোদন দিয়েছি। শিগগিরই এই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।”

এর আগে ২০২০ সালের ১২ মার্চ ভারতীয় নাগরিক হাফিজ আহম্মেদকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার পর সেই ব্যক্তি তা ব্যবহার করে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছেন অভিযোগ করে মামলা করে দুদক।

ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ ছাড়ার পর তার পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথিপত্র গায়েব করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

এসব অভিযোগে হাফিজ আহম্মেদ ও পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন কমিশনের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী।

দুদক কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ নিজেই এ মামলার তদন্ত শেষে সম্প্রতি কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে পাসপোর্ট গ্রহীতা ভারতীয় নাগরিক হাফেজ আহম্মেদ ছাড়া বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা সাত আসামি হলেন- রাজশাহী বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সাবেক সহকারী পরিচালক মো. আবজাউল আলম (বর্তমানে যাত্রাবাড়ী অফিসের সহকারী পরিচালক), রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসের সাবেক এমএলএসএস রঞ্জু লাল সরকার, অফিস সহায়ক হুমায়ন কবির, উচ্চমান সহকারী মো. দেলোয়ার হোসেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আলমাস উদ্দিন, দপ্তরি মো. ইব্রাহিম হোসেন ও সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আব্দুল ওয়াদুদ।

অভিযোগপত্রে ভারতীয় ওই নাগরিকের নাম না থাকার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, “পাসপোর্ট গ্রহীতা হাফেজ আহম্মেদের নাম মামলার এজাহারে থাকলেও ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি ইতোমধ্যে সৌদি আরবে চলে গেছেন।

“তার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়া সত্বেও তার সঠিক ঠিকানা না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে আপাতত চার্জশিট দাখিলের সুযোগ নেই। ভবিষতে তার নাম ঠিকানা প্রাপ্তি সাপেক্ষে সম্পূরক চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।”

মামলার এজাহারে বলা হয়, পুলিশ প্রতিবেদনে পাসপোর্টের আবেদনকারী হাফেজ আহম্মেদকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পাসপোর্ট অফিসের বিশেষ শাখার মডিউলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী হুমায়ুন কবির বিষয়টি কম্পিউটার সিস্টেমে ইনপুট করেননি।

২০১৭ সালের ১৬ অগাস্ট আবেদনপত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপ্রুভাল মডিউলে চলে যায়। পরে আসামি আবজাউল আলম তার দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে সহায়তা করা আলমাস উদ্দিনের মাধ্যমে ৩০ অগাস্ট পাসপোর্টের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।

ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর হাফেজ আহম্মেদকে পাসপোর্ট দেওয়া হয় উল্লেখ করে মামলায় বলা হয়, “এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে হাফেজ আহম্মেদ ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবে যান।

“পরে তার বাংলাদেশে আগমনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”

ভারতীয় নাগরিকের পাসপোর্ট আবেদনের মূল নথিপত্র রাজশাহী বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস থেকে গায়েব করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

Also Read: বাংলাদেশি পাসপোর্ট করে ভারতীয়ের বিদেশ পার, মামলার আসামি ৮

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক