কাঠগড়ায় ১৮ মিনিট: ফুরফুরে মেজাজে আনিসুল, স্বাভাবিক ছিলেন পলক
নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাদের।
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হলে সাধারণত তাকে গম্ভীরই দেখা যায়। রোববার দেখা গেল, ফুরফুরে মেজাজে আছেন তিনি।
আর সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রায় সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বললেও এদিন বলেননি। ছিলেন স্বাভাবিকই।
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মো. মামুন নামে এক চালককে হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে হাজির করা হলে কাঠগড়ায় তাদের এমন অবস্থায় দেখা যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হুসাইন গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন রোববার। এদিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
সকাল ১১টা ৩৬ মিনিটের দিকে পুলিশ পাহারায় আনিসুল হক, পলককে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে বের করা হয়। তখন সামনে ছিলেন আনিসুল হক, আর পেছনে পলক।
লিফটে করে সিএমএম আদালতের চতুর্থ তলার ৬ নম্বর এজলাসে ১১টা ৪৩ মিনিটে তাদের হাজির করা হয়। কাঠগড়ায় নেওয়ার পর তাদের হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে নিলে আনিসুল হক ও পলক সামনে এসে দাঁড়ান।
১১টা ৪৬ মিনিটের দিকে আনিসুল হকের ওকালত নামায় স্বাক্ষর নিতে যান তার আইনজীবী। এসময় তিনি হাসিমুখে নানা বিষয়ে কথা বলতে থাকেন৷ পাশে থাকা পলকও তার আইনজীবীর সঙ্গে আলাপ করেন।
এরপর মামলার শুনানি শুরু হয়। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হুসাইন তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর যুক্তি তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে বলেন, “শেখ হাসিনার পঞ্চ পাণ্ডব আনিসুল হক ও পলকের চক্রান্ত এবং নীলনকশায় জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এই মামলার তদন্তে তাদের নাম এসেছে।
“মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। তদন্তে উঠে আসবে এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কী ভূমিকা ছিল।”
শুনানিতে পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, “এই মামলায় পলকের নাম নেই। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।
“রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করে ব্যক্তিগত অপরাধের দায় কখনোই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আমরা তার গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করছি।”
আনিসুল হকের আইনজীবীও তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর আরজি জানান। শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এদিকে শুনানি চলাকালে ১১টা ৫২ মিনিটে পলকের হাতে পলিথিনে মোড়ানো ওষুধ দেন তার পরিচিত একজন। পলক নিজের বাম পকেটে ওষুধসহ পলিথিন ঢুকিয়ে নেন। শুনানিকালে পলককে স্বাভাবিকই দেখা গেছে। তবে শুনানির পুরোটা সময় জুড়েই ফুরফুরে মেজাজে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন আনিসুল হক। তাকে হাসতেও দেখা যায়।
এদিকে শুনানি শেষে পুলিশ পাহারায় ১২টা ১ মিনিটের দিকে তাদের আদালত থেকে বের হয়। সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে তাদের সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৪ অগাস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে নৌপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আর পরদিন ১৫ অগাস্ট পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ফ্লাইওভারের উপরে আন্দোলনে অংশ নেন মামুনসহ কয়েকজন। মিছিল চলাকালে তাদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলিবিদ্ধ হন মামুন। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন মামুন।
চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে গত বছরের ২১ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন মামুন।
