০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ ৪ দিনের রিমান্ডে

এর আগে এ মামলায় দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ ৪ দিনের রিমান্ডে

আদালতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল হাফিজ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 06:02 PM

Updated : 01 Nov 2026, 06:02 PM

ঢাকার পল্লবী থানার রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের একটি মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল হাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর ছিদ্দিক এ তথ্য দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা-ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ইন্সপেক্টর শেখ বশির আহমেদ তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, এ আসামি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাসহ অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় ‘সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সাথে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংস উস্কানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক প্লাটফর্মে প্রচার করছেন’।

এছাড়া কিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি ‘আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন’ বলে আবেদনে বলা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তারা ফেইসবুকসহ বিভিন্ন পেইজের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে এর মাধ্যমে ‘সহিংসতা, অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো’ কন্টেন্ট তৈরি এবং পোস্ট দিয়ে দেশকে ‘অস্থিতিশীল’ করে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ‘কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়ন করে’ সন্ত্রাসবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত আছে।

আবেদনে বলা হয়, এ সংগঠনের কাজ মূলত দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভেতরে ‘বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা এবং তারা সক্রিয়ভাবে নিজেরা অংশগ্রহণ করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের সার্বভৌম নস্যাৎ করা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইনবলে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ‘ঘৃণা ও অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছে ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’।

সাবেক সেনাকর্মকর্তা হাফিজ বিভিন্নভাবে পুলিশ হত্যার পক্ষে ‘অপপ্রচার করে’ রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট থেকে এখন পর্যন্ত মামলার আসামি ও তাদের সহযোগী আসামিদের নিয়ে ‘সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও কুৎসামূলক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন’।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তাদের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি ‘গুপ্তচরের যোগাযোগ রয়েছে’।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামির পক্ষে আইনজীবী জামালউদ্দিন ভূঁইয়া রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।

দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শনিবার রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

এ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামিরা নিজ বাসায় অবস্থান করে ‘আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা এবং বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক প্লাটফর্মে প্রচার করেন।

এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট প্লাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দরটির পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

তারা ‘কালআজকাল.কম’ নামক পেজ তৈরি করে সহিংসতা এবং অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মত কন্টেন্ট তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনা করছেন।

কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের প্রাক্কালে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন।

আসামিদের সহযোগী ১০১ জন আসামিদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির মাধ্যমে মূলত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানো হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও এজাহারে বলা করা হয়েছে।

পুরনো খবর:

সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ গ্রেপ্তার