১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

“আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 05:38 PM

Updated : 15 Oct 2026, 06:22 PM

প্রায় আড়াই বছরের মাথায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দুয়ার খুলছে মালয়েশিয়া।

বৃহস্পতিবার এ নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলেছে, “মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ভাই-বোনদের জন্য কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেওয়া হলো।

“আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।”

তবে এবার মালয়েশিয়া যেতে কত খরচ পড়বে, সে সম্পর্কে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।

দুই জনশক্তি রপ্তানিকারক বলেন, সরকার নির্ধারিত খরচে আগে কেউ যেতে পারেনি, এবারও পারবেন না।

কত খরচ হতে পারে, এমন প্রশ্নে তারা বলেন, সরকার এখনও তা ঠিক করেনি।

তবে বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে সেই ব্যয় পাঁচ-ছয় লাখ টাকার কম হবে না বলেই ধারণা দেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন দিলেও সাড়া মেলেনি।

অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার চূড়ান্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিক্যাল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে।”

মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রীয় পদ্ধতি ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় দেখা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে তাদের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। যার মধ্যে আছে—এশিয়া ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল, গ্লোবাল মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, ইবনে ওমর মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, জান্নাহ মেডিকেল সার্ভিসেস, ল্যাব সায়েন্স ডায়াগনস্টিক, লিডিং হেলথ চেকআপ, পারফেক্ট মেডিকেয়ার, পুষ্প ক্লিনিক, সানলাইট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, মেডিনেট মেডিকেল সার্ভিসেস, ইউনিকেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস, ডায়নামিক ল্যাব ও  গ্রিনল্যান্ড মেডিকেল সেন্টার।

২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে তৎকালীন প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে তৎপরতা চালান। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি।

এরপর বিএনপি সরকার দায়িত্বে আসার পর গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকেই বেছে নেন। আর সেই সফরেই এ শ্রমবাজার খোলার পথ সুগম হয়।

এরপর গত ২১ অগাস্ট বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে এফডব্লিউসিএমএস।

সেই তালিকায় রয়েছে—বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-শোতুপ ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

এর বাইরে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড-বোয়েসেল’র মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এসব এজেন্সির সহযোগী হিসেবে ২৮ অগাস্ট বাংলাদেশের আরও ৩১২টি এজেন্সির নাম জানানো হয়।

মালয়েশিয়া অনুমোদিত সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সংগ্রহ করবে। এরপর সেই এজেন্সি কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করবে।

এরপর কর্মীর কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া সারবে বোয়েসল ও ২৫টি এজেন্সি। তারাই জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অনাপত্তিপত্রর জন্য সহযোগী এজেন্সিকে ছাড়পত্র দিতে পারবে।