“তালিকা করে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের পর প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত অনুদান দেবেন, যাতে করে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে,” বলেন মেয়র।
Published : 05 Apr 2023, 05:09 PM
ঢাকার বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতি হিসাবের পর প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত অনুদান দেবেন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
তিনি বলেছেন, “কোনো দুর্যোগ হলে প্রথম কাজ হল উদ্ধার তৎপরতা। সেটি গতকাল (মঙ্গলবার) সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমরা মানবিক দিকগুলো বিবেচনা করে পরিপূর্ণভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এবং বিনিয়োগকারীদের সাথে এবং পাশে থাকব।
“আমার সাথে প্রধানমন্ত্রীর আজ সকালে কথা হয়েছে। উনি বলেছেন, আমরা তালিকা করে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার পরেই সকল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্তভাবে তিনি অনুদান দেবেন, যাতে করে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তারা যেন আবার এই ব্যবসায় নামতে পারে। তাদের পুঁজি হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। সেই দিকটাই এখন আমাদের সকলের অগ্রাধিকার।”
বুধবার খিলগাঁওয়ে ‘গোড়ান খেলার মাঠ’ এর নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের পর সাংবাদিককের একথা বলেন মেয়র তাপস।
তিন যুগ পুরনো বঙ্গবাজার মার্কেট ১৯৯৪ সালে এক অগ্নিকাণ্ডে ছাই হয়ে গিয়েছিল। পরে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “মামলার কারণে সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এখন বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। কিছুদিন সময় দিতে হবে। মানবিক দিক নির্ণয় করে তারা যাতে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে…তাদেরকে অনুদান দিয়ে আমরা সেটা নিশ্চিত করব।
“তারপর তারা যাতে সেখানে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য আমরা নতুন একটি পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে বসব। সেটা নিশ্চিত করার পরেই আমরা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করব।”
বঙ্গবাজারে নতুন করে পাইকারি মার্কেট নির্মাণ করা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, “আমরা তাদেরকে (ব্যবসায়ী) নিয়ে বসব। তারা কীভাবে চায়…। প্রধানমন্ত্রীকেও আমরা ভবনের নকশাটি দেখাব।
“এটা পাইকারি বাজার। আমরা এটাকে পাইকারি মার্কেট হিসেবেই তৈরি করব এবং যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত, নতুন ভবনে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাদেরকেই আগে পুনর্বাসিত করা হবে।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বঙ্গবাজারের মূল মার্কেটে রয়েছে চারটি ইউনিট, বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, গুলিস্তান ইউনিট, মহানগর ইউনিট ও আদর্শ ইউনিট। বঙ্গবাজারের উত্তর পশ্চিম কোণে সাততলা এনেক্সকো টাওয়ার, তার পূর্ব পাশে মহানগর কমপ্লেক্স মার্কেটও মঙ্গলবারের আগুনে পুড়েছে।
আগুন বঙ্গবাজারের পশ্চিম পাশের সড়কের অপর প্রান্তের দুটি মার্কেটেও ছড়ায়। এই কয়েকটি মার্কেট মিলিয়ে ৫ হাজারের মতো দোকান রয়েছে; মঙ্গলবার পুড়েছে তার অধিকাংশ ।
এতে ৫ হাজারের মত ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে একটি হিসাব দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উঠে দাঁড়াতে ৭০০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আট সদস্যের কমিটি করেছে ডিএসসিসি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।
ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহমর্মিতা জানিয়েছেন। আগুনের বিষয়ে ভবিষ্যতে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ তিনি করেছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি নিছক ‘দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা’, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তারপরেও, এটি কোথা থেকে শুরু হয়েছে এবং কীভাবে শুরু হয়েছে, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।”
গোড়ান খেলার মাঠের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করে ওই এলাকার নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম, পান্থপথ বক্স কালভার্ট এবং আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তাপস।
এসময় ঢাকা-৯ আসেনর সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, অঞ্চল-২ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সোয়ে মেন জো, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।