২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সমালোচনার মুখে হাফেজদের দেওয়া ইসরায়েলি লেখক হারারির বই ফেরত নেওয়া হল

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থি সংগঠন এ নিয়ে সমালোচনা করে ও প্রতিবাদ জানায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 07:40 PM

Updated : 20 Sep 2026, 07:40 PM

সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের ইসরায়েলি এক লেখকের বই উপহার হিসেবে দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে তা ফেরত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার দুপুরে নিজ দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বইটি ফেরত নেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সৌদি আরবে গত অগাস্টে ‘৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। সেখানে তাদের বিভিন্ন উপহারের সঙ্গে ইসরায়েলি লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির ‘নেক্সাস: আ ব্রিফ হিস্টোরি অব ইনফরমেশন নেটওয়ার্কস ফ্রম দ্য স্টোন এজ টু এআই’ বইটি দেওয়া হয়েছিল।

পরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থি সংগঠন এ নিয়ে সমালোচনা করে ও প্রতিবাদ জানায়। এর কিছু দিন পর বই ফেরত নেওয়ার এ ঘোষণা এল।

রোববার বই ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিজয়ী হাফেজদের দেওয়া ‘নেক্সাস’ বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর ও সহায়তাসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পুনর্ব্যক্ত করে শামীম কায়সার বলেন, “ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতাসহ এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”

আন্তর্জাতিক এসব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও তুলে ধরেন তিনি।

এসময় বিজয়ী হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া, হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী, হাফেজা রাবিতা বিনতে রমাদান ও মুসফিরা বিনতে মাহমুদসহ তাদের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।