২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

এমপি নজরুলের রিমান্ড শুনানিতে যা হল

রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবন থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এমপি নজরুলের রিমান্ড শুনানিতে যা হল

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সোমবার চার দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 05:14 PM

Updated : 21 Sep 2026, 05:48 PM

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের রিমান্ড শুনানিতে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টানলেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি। তখন বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে মামলার বিষয়ে বলতে বলেন।

সোমবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ শুনানি হয়।

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশের ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

পাঁচটি কারণ দেখিয়ে দুইজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার।

৩টা ১২ মিনিটের দিকে সিঁড়ি মাড়িয়ে তাদের পঞ্চম তলার এজলাসে তোলা হয়। এসময় তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ছিল। আসামিদের কাঠগড়ায় নেওয়ার পর এসব খুলে দেয়া হয়।

বিচারক এহসানুল ইসলাম ৩টা ১৫ মিনিটে এজলাসে ওঠেন। ৩টা ১৬ মিনিটের দিকে মামলার শুনানি শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শামসুজ্জোহা রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।

তিনি বলেন, “দুই আসামির মধ্যে একজন রানিং এমপি, আরেকজন জামায়াতের কর্মী। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা।”

এসময় নজরুল ইসলাম আরেক আইনজীবীকে ডেকে বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধার কথা বলেনি।"

আইনজীবী মাহবুবুর বলেন, “নজরুল ইসলাম চারবারের এমপি। এ মামলায় তাদের রিমান্ডে নেওয়ার মত বিন্দু বিসর্গ কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। রাষ্ট্রের একজন আইন কর্মকর্তা। আমরাও মৃত্যুর বিচার চাই।

“তবে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো প্রয়োজন নেই। ন্যায়বিচারের স্বার্থে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তাদের জামিন দেওয়া হোক। আমরা সবকিছুতে সহযোগিতা করব। পালিয়ে যাওয়ার মত লোক আমরা নই।”

Image

জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সোমবার তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

তিনি একজন আইনজীবীকে ডেকে বলেন, “রোববার আমি আদালতে ছিলাম।”

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “মামা ওবায়দুর রহমানকে প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়মকে বিয়ে করেন এমপি নজরুল ইসলাম। প্রথম স্ত্রীকেও রাজি করান মরিয়মকে বিয়ে করাতে।

“ওই মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন হোটেল, মোটেলে যাওয়ার ভিডিও দেখা যায়। তারা ন্যাম ভবনে বাস করতেন। ২০ তারিখে মরিয়ম আত্মহত্যা করে। সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়।”

তিনি বলেন, “আত্মহত্যায় প্ররোচনা অভিযোগে মামলা হয়েছে। হত্যার বিষয় উড়িতে দিতে পারি না।

“সবকিছুতে পূর্ব পরিকল্পনা ছিল। আমরা শুনে এসেছি, জামায়াতে ইসলামীর লোক সৎ।”

এসময় বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “এ মামলার ঘটনায় থাকি। পলিটিকাল বিষয়ে না যাই।”

পরে কৌঁসুলি ফারুকী বলেন, “সৎ লোকের শাসন দেখছি। তাদের রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।”

মাহবুবুর রহমান বলেন, “তারা দুইজনই বয়স্ক মানুষ। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

“নজরুল ইসলাম একজন আইন প্রণয়ন কর্মকর্তা। ঘটনা একটা ঘটে গেছে।”

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

মামলার এজাহারে নিহতের বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ।

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

পুরানো খবর:

এমপি নজরুল ও স্ত্রীকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

পুরানো খবর:

আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে, বাবাকে বলেছিলেন নজরুলপত্নী মরিয়ম

পুরানো খবর:

চিরকুটে যা লিখে গেছেন নজরুলপত্নী মরিয়ম

পুরানো খবর:

মামলার এজাহারে এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ

পুরানো খবর:

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: হেফাজতে গাজী নজরুল, স্ত্রী মাকছুদা গ্রেপ্তার

পুরানো খবর:

দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধার: প্রথম স্ত্রীসহ থানায় নেওয়া হল গাজী নজরুলকে

পুরানো খবর:

ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ

পুরানো খবর:

নজরুলকে বহিষ্কারের কথা জানিয়ে স্পিকার ও ইসিকে চিঠি জামায়াতের

পুরানো খবর:

নারীর সঙ্গে এমপি নজরুলের ভিডিওর খবরে ‘নজর রাখছে’ জামায়াত

পুরানো খবর:

জামায়াত এমপির সঙ্গে নারীর ভিডিও ভাইরাল, দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে পোস্ট