২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‘এক কাপড়েই’ ফিরতে রাজি রোহিঙ্গারা, কিন্তু এখন ‘ডাবল মাইরের’ ভয়

“ওখানে আমাদের সিকিউরিটি নাই। একদিকে আরাকান আর্মি এসে দেবে মাইর, আরেকদিকে এসে সরকার দিবে মাইর।”

‘এক কাপড়েই’ ফিরতে রাজি রোহিঙ্গারা, কিন্তু এখন ‘ডাবল মাইরের’ ভয়

স্কুলের দেয়ালে আঁকা রোহিঙ্গাদের স্বপ্ন। ছবি ব্র্যাক

মাসুম বিল্লাহ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Sep 2026, 12:03 AM

Updated : 22 Sep 2026, 11:57 PM

রাখাইনের রাচিদং টাউনশিপ থেকে ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট জ্বলতে থাকা ঘরবাড়ি ফেলে বাংলাদেশের পথ ধরেন সেনোয়ারা বেগম; তার ভাবনায় কেবল ছিল–ভিটেমাটি সব যায় যাক, প্রাণটা অন্তত বাঁচুক।

সেই অনিশ্চত যাত্রায় বৃষ্টি, কাদা আর নাফ নদী পেরিয়ে সেনোয়ারা, তার স্বামী আর দুই ছেলেমেয়ের ঠাঁই হয় প্রথমে কক্সবাজারের উখিয়ার একটি স্কুল ঘরে।

এরপর লাখ লাখ স্বদেশির সঙ্গে তাদের নতুন ঠিকানা হয় কুতুপালংয়ের শরণার্থী শিবির। পাহাড়ের উপরে নিজেদের বানানো বাঁশ আর প্লাস্টিকের খুপড়ি ঘরে শুরু সেনোয়ারাদের শরণার্থী জীবন।

বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মানবিক সহায়তায় তাদের সেই ঘরের চালা-খুঁটি মজবুত হয়েছে কিছুটা, কিন্তু আয়তন বাড়েনি। এর মধ্যে ঘরে এসেছে আরও দুই সন্তান।

শুরুতে কোনো রকমে দিন চলছিল সহায়তায় খাবারে। পরে শরণার্থী শিবির এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে একটা রোজগারের পথ খোলে সেনোয়ারার স্বামীর।

সেনোয়ারা নিজেও ব্রিটিশ সহযোগিতা সংস্থা অক্সফ্যামের একটি প্রকল্পের অধীনে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন; আয় করছেন নিজের তৈরি নকশিকাঁথা, বিছানার চাদর এবং হাতব্যাগের মত পণ্য বেচে।

সেনোয়ারা বলছেন, নয় বছর আগের ভয়ঙ্কর সেই সময়ের তুলনায় এখন জীবন একটু স্থিতি এসেছে ঠিক, কিন্তু মনটা এখনও তার পড়ে আছে রাচিদংয়ের গ্রামে।

চার সন্তানের ভবিষ্যত কী হবে– এই প্রশ্ন সেনোয়ারাকে একটি দিনও স্বস্তিতে থাকতে দেয় না।

রাখাইনের বাড়ির ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে সেনোয়ারা বলেন, “আমরা শুধু জানটা নিয়ে চলে আসছি। এখন আমরা অবশ্যই রেডি আছি যাওয়ার জন্য।

“কিন্তু ওখানে যেহেতু একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আছে, সেটা যদি স্থিতিশীল হয়, আমাদেরকে এখন যেতে বললে এখনই চলে যাব; পরনে যেটা আছে, সেটা পরেই চলে যাব।”

পেছনে জ্বলতে থাকা ঘরবাড়ি আর নির্বিচার হত্যা-ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে সেনোয়ারার মত সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্টের পর বাংলাদেশে ঢোকেন। টেকনাফ-উখিয়ার পাহাড়ি ভূমিতে বাঁশ, দড়ি আর ত্রিপলে তৈরি ঘরে জায়গা হয় তাদের।

অং সান সুচির তৎকালীন গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো ওই নৃশংসতাকে সে সময় ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদী উদাহরণ’ হিসাবে বর্ণনা করেছিল জাতিসংঘ।

Image

অক্সফ্যামের একটি প্রকল্পের অধীনে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন সেনোয়ারা।

রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেওয়ার উখিয়া পরিণত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে। যেখানে এখন প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৪৫ হাজার শরণার্থীর বসবাস।

রাখাইনে জাতিগত সংঘাতের পর ২০২৪ সাল থেকে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবছর যুক্ত হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার নতুন জন্ম নেওয়া শিশু। নতুন-পুরনো মিলিয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন জাতিসংঘের হিসাবে ১২ লাখের বেশি।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার প্রতিশ্রুতি দিয়েও নয় বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি। বরং তারা নতুন করে ফিরিয়ে এনেছে সেই পুরনো বয়ান। সংকটের নয় বছর পূর্তির আগে আগে তারা আবার বলেছে, রোহিঙ্গা বলে কোনো জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই, তারা রাখাইনের ‘বাঙালি’ অধিবাসী!

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং বাংলাদেশের ডেটাবেইজে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার তথ্য থাকলেও মিয়ানমার বলছে, ২০১৭ সালের পর বাংলাদেশে এসেছে ৫ লাখ ৪০ হাজার ‘বাঙালি অধিবাসী’।

গত ১৫ অগাস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের কাছে ৩১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪টি নাম জমা দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জনকে বাংলাদেশে থাকা রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হয়েছে তারা।

রাখাইনের ‘পরিস্থিতি অনুকূল’ হলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এই বাসিন্দাদের ফেরত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ওই বিবৃতিতে দিয়েছে মিয়ানমার। তবে, তাদের এই প্রতিশ্রুতিকে ‘নাটক’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা রিপ্রেজেন্টেটিভের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ উল্লাহ।

ওই বিবৃতির পরদিন ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ থান সোয়ে মোয়েকে ডেকে কথা বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকার বক্তব্য হল, নেপিদোর বক্তব্য ‘ভুল পরিসংখ্যান নির্ভর’। রোহিঙ্গাদের সঠিক সংখ্যার প্রতিফলন জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনায় তাদের নিবন্ধনের মধ্যেই রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলারও বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ। দ্বিপক্ষীয় মতৈক্যের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে আসা নবাগতদেরও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী জীবন যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তাদের জন্য দাতাদের সহায়তার পরিমাণও দিনে দিনে সংকুচিত হচ্ছে।

ঘিঞ্জি, মানবেতর পরিবেশে অনিশ্চিত জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া দেশহারা এই মানুষগুলোর একটি অংশ মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, তাতে সরকারের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

দালালের খপ্পরে পড়ে অনেকে সাগরপথে বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ছেন। ইউএনএইচসিআর বলছে, বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াগামী মানবপাচারের এই রুটটি সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী, যেখানে ২০২৫ সালে প্রতি সাত জনে একজন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকার যে শিগগিরই এ সংকট সমাধানের কোনো আশা দেখছে না, তা ফুটে উঠেছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের একটি বক্তব্যে।

রোহিঙ্গা ঢলের নয় বছর পূর্তির আগে ২৩ অগাস্ট এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের কাঁধে তুলে নিয়ে এখন নিজেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। রাখাইনে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান রয়েছে তাদেরকে সেখানে প্রত্যাবাসনের মধ্যেই।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সেই লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, “একটি সাধারণ বার্তা আমি দিতে চাই। দশ বছরকে কোনোভাবে বিশ বছর হতে দেওয়া উচিত হবে না।”

Image

ছবি: রয়টার্স

আরও বেড়েছে ভয়

২০১৭ সালে অগাস্টে রোহিঙ্গা ঢলের মধ্যে বাবা এবং ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের পথ ধরেন জাহেদুল্লাহ, এখন তার বয়স ২৮ বছর।

ওই সময় রাখাইনের বুথিডংয়ে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে মিলে দোকান চালিয়ে স্বচ্ছল জীবনই যাপন করছিলেন জাহেদুল্লাহরা। তার এক ভাই আগে থেকেই মালয়েশিয়ায় থাকেন।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের পথ ধরার স্মৃতিচারণ করে জাহেদুল্লাহ বলেন, “গরুর ফার্মে যেভাবে গরু ঢুকায়া বন্ধ করে রাখে, আমরা সেই রকম ছিলাম। ঘোরাফেরা এবং পড়াশোনা করতে পারতাম না।

“এরপর সেনাবাহিনী আমাদেরকে জোর করে মাইরাধইরা বের করে দিয়েছে। আসার সময় মরে পচে আছে এই রকম লোক দেখেছি নিজ চোখে। বাড়িঘর আগুন জ্বালায় দিয়েছে।”

Image

ছবি: রয়টার্স

খাল-নদী পেরিয়ে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট দিয়ে জাহেদুল্লাহরা ঢোকেন বাংলাদেশে; দিকভ্রান্ত মানুষদের সঙ্গে তাদেরও জায়গা হয় কুতুপালংয়ের একটি স্কুলে।

জাহেদুল্লাহ বলেন, ওই স্কুলে আট দিন থাকার পর রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা সেখানে আসেন। কুতুপালং এখনকার চার নম্বর ক্যাম্পে এনে খুপড়ি ঘর তৈরি করতে দেন বাঁশ আর ত্রিপল। নিজেরা ঘর উঠিয়ে শুরু করেন অনিশ্চিত যাত্রা।

কিছুদিন পর তখনকার ১৯ বছর বয়সি এই যুবক ক্যাম্পের ভেতরে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে (কোডেক) স্বেচ্ছাসেবকের চাকরি নেন। ২০২২ সালে সাত-আট মাসের বিরতি দিয়ে এখনও সেখানেই কাজ করছেন।

বাংলাদেশে আসার কয়েক বছর পর ক্যাম্পেই বিয়ে করেছেন জাহেদুল্লাহ। ঘরে এসেছে এক মেয়ে ও এক ছেলে। কোডেক থেকে পাওয়া বেতন আর মানবিক সহায়তায় এখন কিছুটা ‘ভালো’ জীবনযাপন করতে পারার কথা তিনি বললেন।

জাহেদুল্লাহ বলেন, পরিবার মোটামুটিভাবে চলে যাচ্ছে। তিন-চার বছর আর ঘরের কাজে হাত দেওয়া লাগবে না। বাচ্চাও বড় হয়ে গেছে। তবে তিনি রাখাইনে নিজের গ্রামেই ফিরতে চান।

“কিন্তু আঁরার রাইটটান আঁরা পাইদ অইলে, আঁই এদ্দুরের মাঝে পরনত হ'র আছেদে, এগিন লইয়েরে যাইমগই,” রোহিঙ্গা ভাষায় বলেছেন তিনি।

‘আজকে আজকেই চলে যাব’, এমন কথা বললেও মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি আর অতীত নির্যাতনের স্মৃতি উঁকি দেয় জাহেদুল্লাহর মনে।

“ওখানে আমাদের সিকিউরিটি নাই। একদিকে আরাকান আর্মি এসে দেবে মাইর, আরেকদিকে এসে সরকার দিবে মাইর। আগে শুধু মাইর খাইছি সরকারের, এখনতো ডাবল মাইর খামু,” বলেছেন জাহেদুল্লাহ।

Image

ছবি: রয়টার্স

‘প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান’

এত অল্প জায়গায় ১২ লাখের বেশি মানুষের ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন খারপ হচ্ছে। শুরুর সময়ের মত এখনও বাংলাদেশ সরকার বলছে, প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের ‘একমাত্র সমাধান’।

ইউএনএইচসিআর এবং বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে কক্সবাজার ও ভাসানচর মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখ ২ হাজার ৩৪ জন, যাদের অর্ধেকের বেশি বয়সে শিশু।

৩১ জুলাই পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, আঠারোর বেশি বয়সি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৭ জন। নবজাতক থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ৬ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৭ জন।

শিশুদের মধ্যে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৫১৮ জনের বয়সই ১১ বছরের নিচে, যা মোট শরণার্থী জনসংখ্যার সাড়ে ৩৭ শতাংশ।

আনুষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরে থাকা বিশাল সংখ্যক শিশুর ভবিষ্যৎ ও তাদের ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বলে আসছে সরকার।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে রোহিঙ্গাদের জীবিকার ব্যবস্থা করার পরামর্শ এলেও দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিবেচনায় সরকার এর বিপক্ষে।

সে কারণে রোহিঙ্গাদের জীবিকা সংক্রান্ত কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণগুলো সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে ক্যাম্পের ভেতরে।

প্রত্যাবাসন নিয়ে এক প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেছেন, “আমার মনে হয়, এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে প্রত্যাবাসন। এর বাইরে আসলে কোনো সমাধান নাই।”

Image

ছবি: রয়টার্স

এর বাইরে থাকা দুটো বিকল্প ‘অন্তর্ভূক্তি’ এবং তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বিবেচনায় অসম্ভব হওয়ার কথা বলছেন তিনি।

সরকারের এই অতিরিক্ত সচিব বলেন, “লোকসংখ্যার প্রেক্ষিতে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর একটি অসম্ভব ব্যাপার। আর ইন্টিগ্রেশনও রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব।

“কারণটা হচ্ছে বাংলাদেশ একটি ছোট্ট দেশ, ১৮ কোটি মানুষ। আমরা আমাদের জনগণের জীবনমান রক্ষা করার জন্যই হিমশিম খাচ্ছি। সেখানে অন্য দেশের ১২ লাখ মানুষকে এখানে ইন্টিগ্রেট করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”

মানবিক সহায়তা সংকুচিত হয়ে আসার মধ্যে বৈশ্বিক পরিসরে রোহিঙ্গা সংকটকে দৃশ্যমান রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে সরকার। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ২৩ সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টের আয়োজন করেছে সরকার।

রোববার পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, ওই ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগের বছরগুলোতে আয়োজিত ইভেন্টের সঙ্গে এবারের আয়োজনের কী পার্থক্য, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি চলমান সমস্যা। সুতরাং আমরা যেহেতু জাতিসংঘে যাচ্ছি, লিডার্স সামিট পর্বে, আমরা এবারও প্রত্যেকবারের মত রোহিঙ্গা সমস্যার বিশালত্ব, এর চ্যালেঞ্জগুলো এবং বৈশ্বিকভাবে যে সহযোগিতাগুলো, সাহায্যগুলো, সমর্থনগুলো বাংলাদেশের পাওয়া দরকার, সেটা বৈশ্বিক সভায় সকলের কাছে চাইব।”