সশস্ত্র বাহিনী দিবস: সোমবার যান চলাচল সীমিত থাকবে ঢাকা সেনানিবাসে

এইচএসসি পরীক্ষার্থী, সেনানিবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বহনকারী গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহন জাহাঙ্গীর গেইট থেকে স্টাফ রোড পর্যন্ত প্রধান সড়কে চলবে না।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Nov 2022, 05:34 AM
Updated : 20 Nov 2022, 05:34 AM

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কর্মসূচির কারণে সোমবার ঢাকা সেনানিবাসে যান চলাচল সীমিত থাকবে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর বলেছে, ঢাকা সেনানিবাসের (শহীদ জাহাঙ্গীর গেইট থেকে স্টাফ রোড পর্যন্ত প্রধান সড়ক) যানজট মুক্ত রাখতে সোমবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী, সেনানিবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বহনকারী গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী, সেনানিবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের গাড়ি ছাড়া অন্য সব ধরনের যানবাহনকে সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এবং দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেনানিবাস এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছে আইএসপিআর।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার ফজরের নামাজ শেষে দেশের সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। 

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। 

তিন বাহিনী প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে এবং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২২’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেবেন।  

চারজন সেনা, দুইজন নৌ এবং দুইজন বিমান বাহিনী সদস্যদের ২০২১-২২ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করবেন প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সোমবার বিকাল ৪টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। 

জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিরা, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টারা, মন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিরা, প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিরা, ডেপুটি স্পিকার, বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনাররা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মুখ্য সচিব, সংসদ সদস্যরা (ঢাকা এলাকার), প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তারা, তিন বাহিনীর প্রাক্তন প্রধানরা, ২০২২ সালে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, স্বাধীনতা পুরষ্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তি, স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীরশ্রেষ্ঠর উত্তরাধিকারীরা, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তাদের উত্তরাধিকারীরা, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনীর চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

বরাবরের মতই সেনাকুঞ্জের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

আইএসপিআর বলছে, সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধান নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেবেন।

ঢাকা ছাড়াও বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, যশোর, রংপুর ও খুলনা সেনানিবাস ও ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদর দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। 

ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। 

ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনী জাহাজগুলো ২১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সবার দেখার জন্য নোঙ্গর করে রাখা হবে। 

বাংলাদেশ টেলিভিশন রোববার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে দেখাবে সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় ‘বিশেষ অনির্বাণ’। বাংলাদেশ বেতার সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ‘বিশেষ দুর্বার’ সম্প্রচার করবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক