প্রধানমন্ত্রীর অন্যরকম গৃহপ্রবেশ
ফুল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন নতুন বর-কনে। প্রধানমন্ত্রীও দুজনকে মাতৃসম মমতায় আশীর্বাদ করেন এসময়।
ব্রাসেলসে কয়েকদিনের ব্যস্ততার পর শরীরে থাকার কথা দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি; কিন্তু নিজের চেনা আঙ্গিনায় পা রেখেই হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যান্য সময়ের চেয়ে এবার অনেকটাই রঙিন তার গৃহপ্রবেশ।
ব্রাসেলস সফর শেষে শুক্রবার দুপুরে দেশে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে যান তার সরকারি বাসভবন গণভবনে।
সেখানেই এক অভূতপূর্ব দৃশ্য; গাড়ি বারান্দায় ফুল হাতে দাঁড়িয়ে কন্যাসম নিদ্রা আর তার বর অ্যান্ড্রু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সবার সঙ্গে দুজনকে পরিচয় করিয়ে দিতেই খোলাসা হয় বিষয়টি।
আসলে গণভবনে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন নিদ্রা। তিনদিন আগে তার বিয়ে হয় অ্যান্ড্রুর সঙ্গে। তবে সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ব্রাসেলসে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরায় ফুল নিয়ে তার অপেক্ষায় ছিলেন নতুন বর-কনে।
প্রধানমন্ত্রীও দুজনকে মাতৃসম মমতায় আশীর্বাদ করেন এসময়।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া শুক্রবার দুপুরে ফেইসবুকে স্ট্যাটাসে সেই আবেগঘন সময়ের কথা তুলে ধরেন; সাথে সবার ছবিও।
তিনি লিখেছেন, “দীর্ঘদিনের গৃহকর্মী শেরপুরের মেয়ে নিদ্রা গত ২৪ অক্টোবর জাতির পিতার কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার উপস্থিতিতে বিয়ে করেছে নেত্রকোণার ছেলে এন্ড্রুকে। আজ বর-কনে যুগলকে গৃহকর্তা, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা আশির্বাদ করলেন। যেন আটপৌঢ়ে বাঙালি মায়ের প্রকৃত রূপ।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার কাছে ঘরে-বাইরে সকলেই সমান, ব্যক্তিগত বড় কর্তা থেকে বাগানের মালি, নেই কোনো ভেদাভেদ। যার বাড়ির দৃশ্য সম্পর্কে কাজী নজরুল ইসলামের কথাটাই সত্য- যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান, যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম ক্রিশ্চান। যার বিশ্বাসের বেদীমূলে ‘আমার এ দেশ সব মানুষের, সব মানুষের’।”
বিপ্লব বড়ুয়া আরো লিখেছেন, “নিদ্রা-এন্ড্রুর বরণদৃশ্য দেখে কেবলই মনে হলো- তুমি দেশের তুমি দশের, তুমি আমাদের মতো কেউ… তুমি বাংলাদেশের নেতা। জয়তু শেখ হাসিনা।”
