কতগুলো আদালতে ‘লোহার খাঁচা’ আছে, জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Feb 2024, 10:45 AM
Updated : 4 Feb 2024, 10:45 AM

বিচারাধীন ব্যক্তিকে আটকে রাখতে দেশের কতটি আদালতের বিচারকক্ষে লোহার খাঁচা আছে এবং ওই খাঁচা স্থাপন করা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। 

এ বিষয়ে করা একটি রিট আবেদনের প্রথমিক শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। 

আদেশে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তুষার কান্তি রায়।

আইনজীবী শিশির মনির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আদালতের বিচারকক্ষে লোহার খাঁচা স্থাপন করা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং পুনরায় কেন আগের মতো কাঠগড়া স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানিয়ে রুল জারি করেছে আদালত। 

গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী নিম্ন আদালতের এজলাস কক্ষ থেকে লোহার খাঁচা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেন। 

হাই কোর্টে আসার আগে তারা আদালতের বিচারকক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরাতে আইন সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর উকিল নোটিস পাঠান। 

রিট আবেদনকারী ১০ আইনজীবী হলেন জি এম মুজাহিদুর রহমান, মোহাম্মদ নোয়াব আলী, সাদ্দাম হোসেন, আবদুল্লাহ সাদিক, মিজানুল হক, মুজাহিদুল ইসলাম, মেসবাহ উদ্দিন, মো. জোবায়দুল ইসলাম, আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও সাজ্জাদ সারোয়ার। 

বিচারাধীন ব্যক্তিকে আদালত কক্ষে লোহার খাঁচায় রাখাকে ‘আইনের ব্যত্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করে তা অপসারণ চেয়ে গত বছরের ১৫ অক্টোবর ওই উকিল নোটিস পাঠানো হয়। 

নোটিস পাওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতের এজলাস কক্ষ থেকে লোহার খাঁচা অপসারণ করার অনুরোধ করা হয়। তা না হলে মৌলিক অধিকারের সুরক্ষার্থে হাই কোর্ট বিভাগে রিট আবেদন দায়ের করা হবে বলে নোটিসে বলা হয়েছিল।

আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় শতাধিক আদালতে এই ধরনের খাঁচা রয়েছে, যার সিংহভাগ ঢাকায় অবস্থিত। এ ধরনের খাঁচা রাখার ব্যবস্থা সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। 

“সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কারও সঙ্গে নিষ্ঠুর-অমানবিক আচরণ করা যাবে না। অথচ এই খাঁচা ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও বর্বর আচরণ করা হচ্ছে। এর সিংহভাগ ঢাকায় অবস্থিত।” 

তিনি বলেন, সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ, নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদসহ অন্যান্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দলিল এই ধরনের আচরণ অনুমোদন করে না। 

“নিম্ন আদালতে এই খাঁচা ব্যবস্থার মাধ্যমে মূলত নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে। জামিনে থাকা আসামিদের হাজিরার সময়ও এই খাঁচা ব্যবহার করা হয়। তাদের এই খাঁচায় ঢোকানো হয়। সাক্ষ্য গ্রহণের সময়ও জামিনে থাকা আসামিদের খাঁচায় ঢুকিয়ে রাখা হয়।” 

আরও পড়ুন

Also Read: আদালত কক্ষে ‘লোহার খাঁচা’ অপসারণ চেয়ে উকিল নোটিস