বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন
সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতেই একটি চক্র ষড়যন্ত্রে নেমেছে বলে অভিযোগ করা হয় মানববন্ধনে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফোরাম।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি থেকে সংগঠন বলেছে, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতেই একটি চক্র ষড়যন্ত্রে নেমেছে।
মানববন্ধন থেকে সাম্প্রদায়িক সংঘাত, উসকানি ও জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ১০ দফা দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তৃতায় বিভিন্ন স্থানের পূজামণ্ডপে হামলার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পাশাপাশি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা পরিষদের নেতাদের ইন্ধন থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন’ শীর্ষক এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ।
মানববন্ধনে তিনি বলেন, “সনাতন ধর্মের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা পরিষদ এবং ইসকনের গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্যই তারা এই ষড়যন্ত্রে নেমেছে।"
তিনি পূজায় ছুটি বাড়ানো ও অনুদান দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জিত কুমার দে, সহসভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী, আইনজীবী আওলাদ হোসেন ও শুকরি হালদার, আল আমিন, মো. হাবিব, মো. ইমরান হোসেন, খোকন কান্তি দাস, আল-আমিন (সুমন), ওয়াহেদ মজুমদার।
সংগঠনের দাবির মধ্যে রয়েছে- সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বা সংঘাত সৃষ্টির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও উসকানির ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা।
সব নাগরিকের জানমাল, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা তথ্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রচারণা শনাক্ত ও প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
