Published : 29 Jul 2025, 03:48 PM
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের একটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত।
একইসঙ্গে সাতটি ব্যাংক হিসাব ও পাঁচটি বেনিফিসিয়ারি ওনার্স-(বিও) হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের উপপরিচালক খায়রুল হকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।
দুদকের আবেদন অনুযায়ী, নজিবুর রহমানের রমনার ফ্ল্যাটটি ৩ হাজার ২৭৬ বর্গফুটের, যার দাম ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
এছাড়া তার ব্যাংক ও বিও হিসাবে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৮৯ টাকা থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে সেই আবেদনে।
দুদক বলেছে, নজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ, দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে নজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে স্থাবর/অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে তারা। এসব সম্পদের বৈধ কোনো উৎস না পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে দুদকের আবেদনে।
আবেদনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানকালে নজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা এসব স্থাবর/অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে ‘হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার বা অন্যত্র স্থানান্তর বা হস্তান্তর’ করার প্রচেষ্টা চলছে।
এ সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব সম্পদ অবিলম্বে জব্দ এবং অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে দুদক মনে করছে।
গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৭ অক্টোবর নজিবুর রহমানকে ঢাকার রমনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০১৫ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান নজিবুর রহমান৷
২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন মুখ্য সচিব করা হয়।
২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি চাকরি থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যান।
সরকার পতনের আগে সাবেক এই আমলা ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ ব্যবস্থাপনায় গঠিত বোর্ড অব গভর্নসের চেয়ারম্যান ছিলেন।
নজিবুর রহমানকে আটকের পর পল্টন মডেল থানায় করা বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বরের এ ঘটনায় মামলা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৩০ সেপ্টেম্বর। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করা হয় এ মামলায়।
পুরনো খবর: