Published : 19 Nov 2025, 04:42 PM
বাংলাদেশের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে সালিশি কার্যক্রম না চালাতে ভারতের আদানি গ্রুপকে আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
এ বিষয়ে করা একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি ঊর্মি রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
রিট আবেদনকারীর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আব্দুল কাইয়ুম আবেদনের শুনানি করেন।
আব্দুল কাইয়ুম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ৬ নভেম্বর পিডিবি চেয়ারম্যান ও জ্বালানি সচিবকে তিন দিনের মধ্যে আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা ‘একতরফা’ বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনা বা বাতিল করতে আইনি নোটিশ পাঠান তিনি।
এরপর এই গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনা বা বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন তিনি।
এই চুক্তির বিষয়ে একটি তদন্ত চলমান আছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন আসার আগেই যদি সিঙ্গাপুরে আদানি তাদের পাওনা নিয়ে সালিশি কার্যক্রম শুরু করে, তাহলে ওই তদন্তের গুরুত্ব থাকবে না। এ কারণে তারা নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন। এই চুক্তিতে অনেক অনিয়ম হয়েছে।”
বিদ্যুতের জন্য ভারতের এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের চুক্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ‘পাশ কাটিয়ে’ শুল্ক ও কর অব্যাহতির মাধ্যমে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ‘ফাঁকি’র অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ চুক্তির জন্য সাবেক মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস (চুক্তির সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব ছিলেন) ও তার নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধেও তদন্ত করতে দুদকের উপপরিচালক রেজাউল করিমকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর আগে তদন্তে নেমে আদানির বিদ্যুৎ আমদানিতে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের শুল্ক 'ফাঁকির' প্রমাণ পাওয়ার কথা বলে এনবিআর; বহুল আলোচিত এ চুক্তির সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে পাশ কাটিয়ে শুল্ক ও কর অব্যাহতি দেওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে সংস্থাটির তদন্তে।
আরও পড়ুন-
আদানির বিদ্যুৎ: ৪০ কোটি ডলারের শুল্ক 'ফাঁকি' খুঁজে পেল এনবিআর
বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও কমাল আদানি পাওয়ার
সাত দিনের মধ্যে সব বকেয়া চাইনি: আদানি পাওয়ার
বকেয়া না পেলে ৭ নভেম্বর থেকে 'আদানির বিদ্যুৎ বন্ধ'
আদানিসহ ১১ বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনা হচ্ছে
এনবিআরকে ছাড়া আদানির সঙ্গে চুক্তি: আহমদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে তদন্ত