Published : 14 Jan 2026, 12:04 AM
চলন্ত ট্রেনের বন্ধ দরজার বাইরে মাথার ওপর পানির বোতল আর জুসের গামলা নিয়ে ঝুলছিল এক হকার। বারবার অনুনয় করছিল ট্রেনটি থামানোর জন্য।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে দরজায় ঝুলন্ত অবস্থায় ছিটকে পড়ে যায় ওই তরুণ হকার।
ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিকেট পরীক্ষক (টিটিই) তাকে উঠতে দেয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
এ বিষয়ে রেল পুলিশ বলছে, সোমবার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় তারা এরকম একটি ঘটনার কথা শুনেছে। আহত অবস্থায় ছেলেটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, পরে তাকে ড্রেসিং করে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাতে রেল পুলিশ জানিয়েছে, ছেলেটির নাম হৃদয়। সে গফরগাঁওয়ের রাগাইচটির আব্দুল হান্নানের ছেলে।
হৃদয় পুলিশকে বলেছেন, ভাঙাব্রিজ এলাকা থেকে তিনি ট্রেনের বন্ধ দরজায় ঝুলে পড়েন। এসময় ট্রেনটি চলতে শুরু করলে তিনি ভেতরের লোকজন ও রেলের কর্মীর কাছে দরজা খুলতে অনুরোধ করে। কিন্তু রেলের কর্মী দরজা খোলেননি। এক পর্যায়ে তার হাত-পা ব্যাথা হয়ে গেলে তিনি চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়। তার মাথায় আটটি সেলাই দিতে হয়েছে, হাতে-পায়েও জখম হয়েছে।
এ বিষয়ে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জানতে চাইলে রেল পুলিশের ঢাকা রেলওয়ে জেলার এসপি আনোয়ার হোসেন বলেন, “সোমবার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় এমন একটা ঘটনার কথা আমরা শুনেছি।”

তিনি বলেন, “আমরা শুনেছি ট্রেনটি যখন ধীর গতিতে একটি সেতু পার হচ্ছিল তখন ট্রেনে লাফ দিয়ে উঠে পড়ে ওই তরুণ হকার। এরপর সে মাথায় জিনিসপত্রের গামলা নিয়ে বন্ধ দরজার বাইরে ঝুলে ছিল। এই অবস্থায় সে বাইরের কোনো খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে।”
এসপি বলেন, “মূলত বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আমার খোঁজ নেওয়া শুরু করি এবং প্রাথমিক এসব তথ্য জানতে পারি। আর ওই ট্রেনে রেলওয়ে পুলিশের যে সদস্যরা কর্তব্যরত ছিলেন, তারা তখন অন্য বগিতে থাকায় ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেননি।”
ফেইসবুকে ‘ময়মনসিংহ ট্রেন কমিউনিটি’সহ বিভিন্ন পেইজে ছড়ানো পোস্টগুলোতে বলা হয়েছে, “ভিডিও ধারণকারীর ভাষ্যমতে: মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ফার্স্ট ক্লাসের বগি, একজন হকার উঠতে গিয়েছিলেন। দরজায় ছিল তালা। এরমধ্যেই সবটুকু গতিতে ট্রেন ছুটতে শুরু করে।
“মাথার ঝুড়িতে পানির বোতল, জুসের বোতলের মত ভারী জিনিস। ২৫/৩০ কেজি ওজন। ভেতর থেকে দরজা খোরলার চেষ্টা করছেন কয়েকজন। ছেলেটা প্রাণভয়ে কাতর হয়ে চিৎকার করতে করতে দরজার হাতলে এক হাত দিয়ে ধরে আছে।
“ভেতর থেকে কেউ একজন বলছেন, ‘আবু’ ভারী লাগলে ঝুড়ি ফেলে দাও। নেত্রকোনার মানুষ দরদ করে ছোটদের আবু বলে।
ভেতরে স্যুটেড বুটেড টিটি আছেন। সে দেখেও চলে গেল। ছেলেটা শেষপর্যন্ত ছিটকে পড়ে যায়।”
রেল পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলছেন, “এভাবে ট্রেনে ওঠা অপরাধ বটে। তবে মানবিকতার কারণে হলেও দরজাটা খুলে দেওয়া যেতে পারতো।”