Published : 26 Apr 2026, 06:00 PM
ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মাধবী মার্মার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন হয়েছে।
অন্যদিকে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনিরা শারমিন।
একই সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী মাধবী মারমার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রোববার নির্বাচন কমিশনে আবেদন দুটি জমা পড়ে। সোমবার ও মঙ্গলবার শুনানির কথা রয়েছে।
ত্রয়েদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি আসনের ৪৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বৈধ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র জোটের একজন রয়েছেন।
সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পার না হওয়ায় জামায়াতের জোটের প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
রোববার আপিল করার নির্ধারিত সময় ছিল। এ দিন মনিরা শারমিন প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেন।
আর বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য বিএনপির প্রার্থী মাধবী মারমা পদত্যাগ না করে প্রার্থী হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে আপিল করা হয়েছে। আবেদন করেছেন ছাত্রদলের নেত্রী চন্দ্রা চাকমা।
যা বললেন মনিরা শারমিন
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরের পর তিন বছর ডার না হলে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য হতে পারবেন না।
২০২৫ সালের মার্চে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান মনিরা শারমিন। তিনি ২০২৩ সালে নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) পদে যোগ দেন, দুই বছর পর গেল ডিসেম্বর চাকরি ছাড়েন তিনি।
এ নিয়মে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়েন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের আপিল করার পর মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছি। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুনানির সময় দিয়েছে কমিশন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আমি যে পর্যায়ে কাজ করেছি, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতা ছিল না। কাজেই আমি মনে করি না, এটা মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার মতো।”
বাছাইয়ে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের প্রতি ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মনিরা শারমিন বলেন, “আইন তো সবার জন্য সমান। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিমাতাসুলভ আচরণ কিনা! আমরা দেখছি, মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা পরিষদের প্রশাসনিক পদে থেকেও নির্বাচন করতে পারছেন, তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়নি।
“ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর অব প্রোগ্রামস পদে ছিলেন (আন্না মিনজ) বিএনপির আরেক প্রার্থী। এতে বিভক্তি তৈরি করা হচ্ছে এবং আইন সবার সমান দেখতে পাচ্ছি না।”
যা বললেন চন্দ্রা চাকমা
বিএনপির প্রার্থী মাধবী মারমার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করা চন্দ্রা চাকমা নির্বাচেন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক। মাধবী মার্মা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে সরে না দাঁড়িয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, যা আইনগতভাবে অবৈধ।“
তার দাবি, অন্যান্য জেলা পরিষদের আইন কিন্তু এক ধরনের, আর তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে হলে চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র যোগে যেকোনো সদস্য পদত্যাগ করতে পারবেন।
“উনি কিন্তু পদত্যাগ করেননি। উনি ২১ তারিখে কিন্তু এখানে তার মনোনয়নপত্র সবকিছু দাখিল করেছেন। যার কারণে তিনি জেলা পরিষদের আইন যেমন লঙ্ঘন করেছেন, তেমনি নির্বাচন কমিশনের যে আইন আছে, সেটাও লঙ্ঘন করেছেন।”
তবে চন্দ্রা চাকমার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবী মার্মা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছি। অনুমোদন হয়ে গেছে গেল সপ্তাহে। এরপর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।”
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ আর ভোট হবে ১২ মে।
সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীরা সাধারণত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।