Published : 15 Aug 2025, 09:00 PM
গীতাযজ্ঞ, নামসংকীর্তন, শোভাযাত্রা, কৃষ্ণ পূজাসহ নানা আয়োজনে শনিবার শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উদযাপন করবেন বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
জন্মাষ্টমী উদযাপনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটিসহ সারাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত শোভাযাত্রা হবে। শোভাযাত্রা যাতে নির্বিঘ্ন হয় এবং যানজট এড়াতে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দি দেবকী ও বাসুদেবের কোলে এসেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
অবতার হিসেবে তিনি প্রেম, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। ব্রতী হন অত্যাচারী ও দুর্জনের বিরুদ্ধে শান্তিপ্রিয় সৎ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়।
দুষ্টের দমন করতে একইভাবে যুগে যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আসেন, সত্য ও সুন্দর ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন- এটাই সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস।
তারা মনে করেন, জন্মাষ্টমী ব্রত (উপবাস) পালনে সমস্ত পাপমোচন ও পূণ্যলাভ হয়। যারা নিয়মিত এ ব্রত পালন করেন, তাদের সৌভাগ্য, আরোগ্য ও সন্তান লাভ হয়। এছাড়া পরকালে স্বর্গপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণীতে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ধর্মাবতার শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি ‘শুভ জন্মাষ্টমী’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি বলেছেন, “সমাজে সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে শ্রীকৃষ্ণ আজীবন ন্যায়, মানবপ্রেম ও শান্তির বাণী প্রচার করেছেন। শ্রীকৃষ্ণ যেখানেই অন্যায়-অবিচার দেখেছেন, সেখানেই অপশক্তির হাত থেকে শুভশক্তিকে রক্ষার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন।
“সৃষ্টিকর্তার বন্দনা ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শ্রীকৃষ্ণের দর্শন ও মূল্যবোধ সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকলকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের সংস্কৃতির ‘অনন্য বৈশিষ্ট্য’ এবং আবহমানকাল থেকে এদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছে।”
ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রীতির এই বন্ধনকে অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর বলেও বাণীতে বলেন তিনি।
ইউনূস বলেছেন, “সমাজে বিদ্যমান শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাই। শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ‘ভরপুর বৈষম্যমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমি ‘জন্মাষ্টমী’ উৎসবের সাফল্য এবং দেশের সকল নাগরিকের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করি।”
জন্মাষ্টমীর আায়োজন
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে নানান আয়োজন কথা জানিয়েছেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শনিবার সকাল আটটায় দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ, বেলা ৩টায় জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজার আয়োজন থাকবে।”
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত গীতাযজ্ঞ পরিচালনা করবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শংকর মঠ ও মিশন।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনের জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘ঐতিহ্যের নান্দনিক উপস্থাপনায়’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর এই শোভাযাত্রাটি প্রতিবছরের মতো বিভিন্ন পথ ঘুরে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।
এরপর মঙ্গলবার বেলা ৩টায় হবে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে জানান জয়ন্ত কুমার।
যানবাহন চলাচলে বিকল্প সড়ক
জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা উপলক্ষে শনিবার ঢাকার বেশকিছু সড়ক বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ‘যথাসম্ভব’ এড়িয়ে চলাচল করতে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
শোভাযাত্রা চলাকালীন নগরবাসীকে বিকল্প সড়কে চলাচল করতে অনুরোধ জানিয়ে সকলের ‘সর্বাত্মক সহযোগিতা’ চেয়েছে পুলিশ।
শোভাযাত্রার পথ
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির-পলাশী বাজার-জগন্নাথ হল-কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-দোয়েল চত্বর-হাই কোর্ট-বঙ্গবাজার-ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ভবন-গোলাপশাহ মাজার-গুলিস্থান মোড়-নবাবপুর রোড-রায় সাহেব বাজার মোড় হয়ে বাহাদুর শাহ্ পার্ক।
ডিএমপির নির্দেশনা
>> শোভাযাত্রার রুটে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা যাবে না।
>> উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
>> শোভাযাত্রার শুরুতেই অংশ নিতে হবে, কোনোভাবেই মাঝপথে যোগ দেওয়া যাবে না।
>> নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ডব্যাগ, ট্রলি, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, পোটলা, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, ক্ষয়কারক তরল, ব্লেড, দিয়াশলাই, গ্যাসলাইটার সাথে নিয়ে অংশ নেওয়া যাবে না।
>> শোভাযাত্রা চলাকালে পথে কোনো ধরনের ফলমূল ছোড়া যাবে না।
>> শোভাযাত্রার সময় রাস্তায় অহেতুক দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
>> সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু দেখতে পেলে তাৎক্ষণিক কাছাকাছি থাকা পুলিশকে জানাতে হবে।
>> শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের স্বেচ্ছাসেবক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
>> ব্যারিকেড, পিকেট ও আর্চওয়ে ব্যবস্থাপনায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।