Published : 16 Apr 2026, 11:28 PM
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য প্যাকেটে সতর্কবার্তা জুড়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে কর্মশালা করেছে ‘প্রগতির জন্য জ্ঞান’ (প্রজ্ঞা)।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে সাংবাদিকদের নিয়ে ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শিরোনামে এ কর্মশালা হয়েছে।
সেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার (ডায়েট রিলেটেড রিস্ক ফ্যাক্টর) সামিনা ইসরাত বলেন, “ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) প্রবর্তন বাংলাদেশে বিদ্যমান জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একটি সহায়ক খাদ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, যা জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনে ভূমিকা রাখবে।”
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, “অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি হ্রাসে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে নির্ভরতা কমানো জরুরি। ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থা ভোক্তাকে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে সহায়তা করে থাকে।”
কর্মশালায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন বা সতর্ক করতে সরকার 'ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং’ ব্যবস্থা প্রচলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আশা করি দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, “ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ বজায় রাখতে হবে।”
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “এর ফলে ভোক্তা সহজেই বুঝতে পারেন কোন খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম), চিনি বা সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে এবং সে অনুযায়ী তিনি স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন করতে পারেন। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক এফওপিএল প্রচলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।”
কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার এবং প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা কর্মশালায় প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে ছিলেন ‘অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স’ (আত্মা) এর কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী।