১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরাপত্তা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নারীর প্রকৃত অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অসম্ভব: সেলিম জাহান

নারীর জন্য ‘সম্পদের অধিকার’, তথ্য-প্রযুক্তিতে সমান সুযোগও দাবি করেন এই অর্থনীতিবিদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Apr 2026, 12:39 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:27 PM

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সহিংসতা থেকে সুরক্ষা এবং সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নারীর প্রকৃত অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান।

তিনি বলেছেন, “কেউ কাউকে ক্ষমতায়িত করতে পারে না; পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র কেবল ক্ষমতায়নের সহযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। ক্ষমতায়নের মূল ভিত্তি হল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার স্বাধীনতা।”

নারীর জন্য ‘সম্পদের অধিকার’, তথ্য-প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ এবং ‘অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতার’ ওপর জোর দিয়ে সেলিম জাহান বলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সামগ্রিক নিরাপত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যাবে না। 

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ: নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অভিমুখী বাজেট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে কথা বলছিলেন তিনি। 

বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাদিয়া শারমিন বলেন, ৫৬ বছর ধরে চলমান সমস্যা নিরসনে বহুমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন। 

অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারীর বাস্তব প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কমিউনিটি ভিত্তিক মনিটরিং এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন নারীদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে আলোচক হিসেবে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী, বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক অতনু রাব্বানি, বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আজরীন করিম, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বাংলাদেশের সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট সাবিনা পারভীন, সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট প্রীতিলতা খন্দকার হক এবং সানেমের ডেপুটি ডিরেক্টর ইশরাত শারমিন।

আলোচকরা জেন্ডার বাজেট ট্র্যাকিং ও এর ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।

তারা বলেন, বরাদ্দ বাজেটের খরচ সঠিকভাবে তদারকি এবং জেন্ডার বাজেটকে কেবল ঝুঁকি কমানোর মাধ্যম না করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

এছাড়া উন্নয়ন নিশ্চিতে মানুষের নেতিবাচক আচরণ বদলাতে উৎপাদনমুখী শিক্ষায় বরাদ্দবৃদ্দি করতে এবং ‘জেন্ডার ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ করার দাবি জানান আলোচকরা। 

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ‘অপরিহার্য’।

তিনি সহিংসতা নিরসনে ওসিসি সেন্টারের কার্যক্রম স্থায়ী করা এবং উত্তরাধিকার আইনে নারীর সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিতের দাবি জানান।

অ্যাকশন এইড, শক্তি ফাউন্ডেশন ও ব্লাস্টসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।