Published : 01 Mar 2026, 05:04 PM
দেড় বছর আগে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়া ১৩ বছর বয়সী গৃহকর্মী কল্পনার মামলায় দুই ভাই-বোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া রোববার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
বিচার শুরু হওয়া দুই আসামি হলেন-গৃহকর্ত্রী দিনাত জাহান আদর এবং তার ভাই নাজমুস সাকিব।
আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মহিমা বাঁধন এবং মহসিন রেজা আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেছিলেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইব্রাহিম কাউছার বলেন, আগামী ২৫ অগাস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছে আদালত।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মহিমা বাঁধন বলেন, "আসামিদের পরিবারের পক্ষ থেকে ভিকটিমের সব দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। তাদের ভরণ-পোষণ, ভিকটিমকে বিয়ে দেওয়া, দোকান করে দেওয়া এবং নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। আজ মামলায় চার্জ গঠন হল। বিচার বিচারের মতই হবে। আমরা ট্রায়ার ফেইস করবো। আর ভিকটিমের ভুল ছিল এটা স্বীকার করেছে। তারা সাক্ষ্যে সেটা বলবেন। আশা করছি, সব কিছু মিলিয়ে তারা খালাস পাবেন।"
২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর ওই বাসা থেকে কল্পনাকে উদ্ধার করে পুলিশ। তার মা আফিয়া বেগম সেদিনই ভাটারা থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুন থেকে বসুন্ধরার আবাসিক এলাকায় দিনাত জাহানের বাসায় কাজে যোগ দেয় কল্পনা। এরপর ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত তাকে কোনো দিনই ‘ঠিকমত খেতে দেওয়া হয়নি’।
অভিযোগে বলা হয়, দিনাত ও তার ভাই কারণে-অকারণে কল্পনাকে মারধর করতেন।
“চুল শুকানো ড্রায়ার দিয়ে ছ্যাঁকা দিতেন। কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে তার হাতের নখ উঠিয়ে ফেলা হয়। জুতার ব্রাশ দিয়ে মেরে পিঠের চামড়া তুলে ফেলা হয়। ঘর মোছার ব্রাশ দিয়ে মুখে বাড়ি দেওয়ায় কল্পনার সামনের দুটো দাঁত ভেঙে যায়। মারধরের ফলে মুখ, হাত-পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন ক্ষতস্থানে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সেই গন্ধ দূর করতে পারফিউম ব্যবহার করা হত, তবুও তাকে ওষুধ দিতেন না গৃহকর্ত্রী। ক্রমাগত নির্যাতনে কল্পনার চেহারা বিকৃত হয়ে যায়।”
ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটর ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আফনান সুমীর কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে কল্পনাও এই বীভৎস নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ২৮ অগাস্ট দুই ভাইবোনের বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. নেছার উদ্দিন। অভিযোগপত্রেও নির্মম নির্যাতনের তথ্য উঠে আসে।
তবে মামলার তদন্ত চলার মধ্যেই গত বছরের ১৬ জুলাই দুই পক্ষ অর্থের বিনিময়ে আপস করে ফেলে। সেই আপসনামা আদালতেও দাখিল করা হয়। সেখানে বলা হয়, কল্পনার সঙ্গে দিনাত জাহানের ‘মনোমালিন্য, বিতর্ক ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে’ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
'ভয়ঙ্কর' নির্যাতনের শিকার সেই কল্পনা চায় বিচার, বাবা-মায়ের ভিন্ন সুর