Published : 08 Feb 2026, 11:50 AM
তফসিল ঘোষণার পর ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যার শিকার হয়েছে বলে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টিআইবি, সেই তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইবি বলেছে যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যাটি দ্রুতই যাচাই ছাড়াই আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। এ তথ্য পুনরাবৃত্তির আগে সতর্ক পর্যালোচনার দাবি রাখে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে, পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী ওই সময়ের মধ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে মাত্র পাঁচটির সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া যায়। এসব ঘটনার একটি ছিল ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড, যিনি বাইকে আসা বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন।
প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয় মন্তব্য করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তবে ওসমান হাদির হত্যা ছিল বিশেষভাবে নৃশংস, যার উদ্দেশ্য ছিল কেবল একজন তরুণ রাজনৈতিক নেতাকে শেষ করা নয়, বরং সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
তবে সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, টিআইবির উপস্থাপনায় যে বিষয়টি অনুপস্থিত, তা হলো প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট। বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কোনো ঘটনা নয়।
অতীতের নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ছয়জন নিহত হন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রাণ হারান ২২ জন এবং সরকারিভাবে কারচুপিপূর্ণ ২০১৪ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১১৫ জন নিহত হন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইবির পরিসংখ্যান ও সরকারি তথ্যের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তা কোনো তথ্য গোপনের ফল নয়। বরং হত্যাকাণ্ডকে কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে, সে বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গিগত মতপার্থক্যের বিষয়।
দেড় বছরে ৬০০ রাজনৈতিক সহিংসতার '৫৫০টিতেই বিএনপি সম্পৃক্ত': টিআইবি