Published : 14 Sep 2026, 11:38 PM
দুনীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, ‘ভুয়া তথ্য ও একটি বিতর্কিত প্রোপাগান্ডা পেইজের’ সংবাদের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে দুদকের চলমান কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, “খোঁজ নিয়ে আমি স্পষ্টভাবে জানতে পেরেছি কয়েকজন খুবই উচ্চ পর্যায়ের নেতা, তারা বিভিন্ন সময় বিশেষ করে সরকারে থাকা অবস্থায় আমার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই এই পুরো প্রক্রিয়া চলমান আছে।”
তবে সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ফেইসবুক পেজে প্রচারিত তার এই বিশেষ ভিডিওবার্তায় এসব নেতার কারও নাম তুলে ধরেননি আসিফ মাহমুদ, যিনি সাবেক অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রোববার আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ‘অর্থপাচার, নিয়োগ-পদায়নে অর্থ লেনদেন, উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়াসহ’ নতুন কিছু অভিযোগ পাওয়ার কথা বলেছে দুদক। তার বিরুদ্ধে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরুর তথ্য দিয়েছে কমিশন।
এর প্রেক্ষিতে অনলাইনে বিশেষ এই ভিডিও বার্তা দেন জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে উঠে আসা তরুণ এই রাজনৈতিক নেতা।
আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পান।
২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়ে দলটির মুখপাত্র হন।
নতুন অভিযোগ ঘিরে ‘প্রতিশোধের’ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আসলে এটার এই প্রক্রিয়ায় কোনো কিছু প্রমাণ করার কোনো ইনটেনশন আছে বলে আমার প্রাইমারিলি মনে হয় নাই। কেন মনে হয় নাই? কারণ মানে এটাকে একটা নিউজ কনটেন্ট হিসেবে মোর কনজিউম করানোর একটা চেষ্টা বা একটা প্রচেষ্টা আমরা শুরু থেকে দেখে আসছি।”
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন শিরোনামের স্ক্রিনশট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘এটাকে প্রমাণ করার যদি তাগিদ থাকতো, তাহলে যেই প্রথম অনুসন্ধানটা হয় সেটা বিএনপি আমলের একটা পদোন্নতিতে অনুসন্ধান। সেটা নিয়ে যখন আমরা সেটা খোলাসা করলাম, তখন আপনারা দেখলেন যে আপনাদের যথেষ্ট গ্রাউন্ড নাই, আপনারা আরেকটা অনুসন্ধান নিয়ে আসলেন এবং সেটা নিয়ে আসলেন আওয়ামী লীগের একটা প্রোপাগান্ডা পেইজ থেকে কপি পেস্ট করে।”
তার দাবি, এর আগে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছিল, সেটির কোনো ভিত্তি ছিল না।
ভিডিও বার্তায় আসিফের অভিযোগ, দুদক এবার যে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের ১২-১৩টি অভিযোগের কথা তুলে ধরেছে তা মূলত ‘আজকের কণ্ঠ’ নামে একটি অননুমোদিত প্রোপাগান্ডা পেইজের পুরানো একটি প্রতিবেদনের কপি।
তার অভিযোগ, পেইজটি আওয়ামী লীগের পলাতক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিচালনা করছেন এবং সেখান থেকে নিয়মিত অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়।
অর্থপাচারের অর্থের পরিমাণের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, “দুবাইয়ে সাড়ে চার হাজার কোটি, সিঙ্গাপুরে তিন হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় দুই হাজার কোটি ও সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকার যে হিসাব দেখানো হয়েছে, তার প্রতিটি সংখ্যাই গোলাকার (রাউন্ড ফিগার)। হিসাবের বিশাল গরমিল ঢাকতেই মনগড়াভাবে এ ধরনের রাউন্ড ফিগার বসিয়ে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার গল্প বানানো হয়েছে।”
মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়ার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে ১৫০টি মিনি স্টেডিয়ামের প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা না থাকায় কেবল সামান্য কিছু অবকাঠামোগত কাজের জন্য প্রাক্কলন ধরা হয়েছিল। পরবর্তীতে উপজেলার সংখ্যা অনুযায়ী প্রায় ৫০০টি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিনগুণ মূল্যে জমি অধিগ্রহণ এবং আধুনিক প্যাভিলিয়ন নির্মাণের বাধ্যবাধকতার কারণে একনেক থেকে বিধি মেনে এর বাজেট বৃদ্ধি পায়। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে একনেকে অনুমোদন পাওয়া এই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
ভিডিওতে কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, দুদক যেখানে কেবল অভিযোগ অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছে, সেখানে বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ও পোর্টাল কোনো প্রমাণ ছাড়াই ‘আসিফ মাহমুদের টাকা আছে সুইস ব্যাংকে’ বা ‘১১ হাজার কোটি টাকা পাচার আসিফের’ জাতীয় চূড়ান্ত রায়সূচক শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করছে।
“একই সময়ে হুবহু একই শিরোনাম ও একই টেক্সটে সমন্বিতভাবে একযোগে খবর পরিবেশন করা মিডিয়া ট্রায়ালের সুস্পষ্ট লক্ষণ।”
এর আগেও আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনে দুদক।ওই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে ৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। ওই ব্যাখ্যায়ও আসিফ দুদকের অনুসন্ধানকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।