১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাকে হেনস্তা: কনটেন্ট অপসারণ চেয়ে আইনি নোটিস

সাইবার সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Sep 2026, 03:52 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:59 AM

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সোনালী ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তাকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অবমাননাকর কনটেন্ট অপসারণ এবং সাইবার সুরক্ষায় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিস দেওয়া হয়েছে।

রোববার কোটালীপাড়ার চিতশী গ্রামের বাসিন্দা আরিফ শেখের পক্ষে এ নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ আনিছুজ্জামান।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার), আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক এবং তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য অফিসারকে নোটিসে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিসে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা ফৌজিয়া হক। এ সময় নিজেদের ‘মোবাইল সাংবাদিক’ ও ‘অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয় দেওয়া একদল ব্যক্তি শাখা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

নোটিসে বলা হয়, এক গ্রাহকের পাঁচ লাখ টাকা জমার স্লিপ দেওয়ার আগে টাকা গণনার সময় সাড়ে চার হাজার টাকার হিসাবগত তারতম্যকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিরা বিনা অনুমতিতে নিজেদের ফেইসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচার শুরু করেন। তারা ওই নারী কর্মকর্তাকে আক্রমণাত্মক প্রশ্ন করেন এবং তাকে সাইবার বুলিং ও সামাজিক হেনস্তার মুখে ফেলেন।

পরে ধারণ করা ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাটছাঁট ও বিকৃত করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইন্টারনেট প্লাটফর্ম ও একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয় বলে নোটিসে বলা হয়েছে।

এ ঘটনাকে সরকারি কাজে প্রত্যক্ষ বাধা এবং সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে নোটিসে দাবি করা হয়েছে।

এতে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের এবং বিটিআরসি ও এনটিএমসিকে ডিজিটাল মাধ্যম থেকে অবমাননাকর কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও স্পর্শকাতর সরকারি দপ্তরে অননুমোদিত প্রবেশ, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ, যেখানে সেখানে ফেইসবুক লাইভ এবং সাইবার বুলিং বন্ধে সুস্পষ্ট জাতীয় নির্দেশিকা ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিবাদীদের বিরুদ্ধে তাদের খরচে রিট আবেদন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।