নিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়ে তারা দলীয় প্রতিনিধির কাজ করছে: ইশরাক
“এরা ঢাকায় বিএনপির মেয়র আটকানোর চেষ্টার মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে কী ভূমিকা পালন করবে, তা ‘ক্লিন কাট’ বুঝিয়ে দিল,” বলেন ইশরাক।
অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যক্তির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে তার শপথের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যে সোমবার বিকালে ফেইসবুক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
ইশরাক বলেন, “মেয়র ফেওর কিছু না। অন্তর্বর্তী সরকারের কতিপয় ব্যক্তির অন্তরে ক্ষমতার লোভ ও এটি চিরস্থায়ী করার কুৎসিত সত্যটা বের করে আনাটাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। অনেক সমালোচনা মাথা পেতে নিয়েছি, পিতামাতা তুলে গালিগালাজও চুপ করে সহ্য করে গিয়েছি।
“কারণ একটাই, এদের চেহারা উন্মোচন করতে হবে গণতন্ত্রের স্বার্থে, জনগণের ভোটার অধিকারের স্বার্থে। সর্বশক্তি দিয়ে এরা ঢাকায় বিএনপির মেয়র আটকানোর চেষ্টার মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে কী ভূমিকা পালন করবে, তা ‘ক্লিন কাট’ বুঝিয়ে দিল।”
অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক বলেন, “কোনোকিছু চলবে না, যারা নিরপেক্ষতা শুধু বিসর্জন দিয়েছে নয়, বরঞ্চ একটি দলের প্রতিনিধির কাজ করেছে, তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।”
ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে বুধবার থেকে কর্মসূচি পালন করে আসছেন তার সমর্থকরা। সেদিন থেকেই ডিএসসিসি নগর ভবন কার্যত অচল।
সোমবার একই দাবিতে নগর ভবন ‘ব্লকেড’ কর্মসূচিতে নামেন তার সমর্থকরা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে এ অবরুদ্ধ কর্মসূচি শুরু হয়।
আন্দোলনকারীরা নগর ভবনের ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে অস্থায়ী মঞ্চ বানান। সেখানে চলে সংগীত পরিবেশন। নগর ভবন থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো মাইকে চলে স্লোগান, হয়েছে ছোট-ছোট মিছিল।
বিক্ষোভকারীরা গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের সামনে এক পাশে সড়ক বন্ধ করে অবস্থান নেন। এতে দুর্ভোগে পড়েন ওই পথে চলাচলকারীরা। এ ছাড়া নগর ভবনের দুই পাশের সড়কেও তারা অবস্থান নেন। বৃষ্টির মধ্যে তারা কর্মসূচি চালিয়ে যান।
ইশরাক অন্তবর্র্তী সরকারের কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ফেইসবুকে লিখেন, “এরা হাসিনার মতই বিচারকদের হুমকি দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করছে। উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করেছে এবং আমলাতন্ত্রে হাসিনার দোসরদের সঙ্গে নিয়ে লম্বা কুচক্রী পরিকল্পনা করছে। একদিন এদের সবার নাম পরিচয় প্রকাশ পাবে।
“হাসিনারেও বলছিলাম কবরটা ঠিক করাই আছে, আল্লাহর হুকুম থাকলে সেখানেই হবে ইনশাআল্লাহ। লড়াই শেষ হয় নাই। হয় দাবি আদায় করব নাহয় আল্লাহর নির্ধারিত স্থানে মাটির নিচে শায়িত হব। গণতন্ত্রের সঙ্গে, জনগণের ভোটার অধিকারের সঙ্গে এক চুল ছাড় হবে না।”
