Published : 31 Aug 2025, 09:20 PM
পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে বাজারে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ২০ থেকে ৮০ টাকায় মিলবে এসব ব্যাগ।
কারওয়ান বাজারে রোববার পাটের ব্যাগ বাজারজাত করার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, পাটের তৈরি ব্যাগ টেকসই, পুনরায় ব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব। পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ প্রচলনে সরকার ভর্তুকি মূল্যে পাটের ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে।
মান ও আকারভেদে ২০, ২৫, ৩০, ৩৫, ৭০ ও ৮০ টাকায় রোববার পাটের ব্যাগ বিক্রি করা হয় কারওয়ান বাজারে। সরবরাহ বাড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পর্যায়ক্রমে এ ব্যাগ দেওয়া হবে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নির্ধারিত ডিলারদের কাছে ভর্তুকি মূল্যের এ ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “‘সরকার পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। অথচ দেখেন, না বিক্রি বন্ধ হয়েছে, না ব্যবহার বন্ধ হয়েছে, না উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। পলিথিন কিন্তু আইনত নিষিদ্ধ। সেই ২০০২ সালে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবহার হয়েই চলছে। এখন আর আমাদের হাতে সময় নেই। বন্ধ করতে হবে পলিথিন।
“‘এই পলিথিনের মধ্যে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরে ঢুকছে। মায়ের দুধে পাওয়া গেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। মানুষের মস্তিষ্কেও প্রবেশ করেছে। পলিথিন হচ্ছে এক ধরনের বিষ। এই বিষ আর নেওয়া যাবে না।’’
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘‘একবার ব্যবহার করা পলিথিন বন্ধ হলে বছরে অন্তত এক বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় কমে যেত। পাট স্থানীয় পণ্য হওয়ার পরও পাট খাতে বাংলাদেশ এগোতে পারছে না। অথচ প্রতিবেশী ভারতসহ অনেক দেশ পাট শিল্পে এগিয়ে গিয়েছে। আমাদের পাটের ব্যবহার বাড়াতে হবে।’’

শেখ বশিরউদ্দীন বাণিজ্য মন্ত্রণালেয়রও উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মঙ্গলের জন্য পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বন্ধ করা জরুরি। আমাদের অঙ্গীকার হবে আর পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার করব না। পাটপণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।’’
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা খানম, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা বক্তব্য দেন।