Published : 14 Dec 2025, 09:07 PM
বিসিএসের নন-ক্যাডারের আট হাজার ৫০১টি পদ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
৪৩তম বিসিএসের ৭৭৩ জন প্রার্থীর করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। সঙ্গে ছিলেন নাঈম সরদার ও আশরাফুল করিম সাগর। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পক্ষে ছিলেন মো. মনিরুজ্জামান।
৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও ক্যাডারপদে সুপারিশ পায়নি এমন ৫০০ জন চাকরিপ্রার্থী গত ২৯ জানুয়ারি রিট আবেদনটি করেন।
প্রথমে ওই বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মো. মারুফ হোসেন, মো. হাসান সরদার, মো. ফারুকুল ইসলামসহ ৫০০ জন বাদী হয়ে রিট করেন। পরে আরও ২৭৩ জন আবেদনকারী হিসেবে এতে যুক্ত হন।
রিটকারীর আইনজীবী মোহম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, নন ক্যাডার প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ না করা এবং ফলাফল প্রকাশের আগেই নন ক্যাডার প্রার্থীদের পছন্দক্রম আহ্বান করা সংশ্লিষ্ট নন ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক।
রিট আবেদনে বলা হয়, ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পরে সর্বমোট ৯৮৪১ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পিএসসি ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নন ক্যাডার পদে চাকরি করতে ইচ্ছুক–এমন প্রার্থীদের অনলাইনে পছন্দ কম আহ্বান করে। পরে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিস পদে ২১৬৩ জনকে এবং একইসঙ্গে বিভিন্ন নন ক্যাডার পদে ৬৪২ জনকে সুপারিশ করা হয়। অথচ নন ক্যাডার মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। যেটি ‘নন ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা ২০১০, সংশোধিত ‘বিধিমালা ২০১৪’ এর পরিপন্থি।
৪৩তম বিসিএসের সার্কুলারে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে বঞ্চিত নন ক্যাডার প্রার্থীদের নন ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা ২০১০, সংশোধিত বিধিমালা ২০১৪ অনুযায়ী সুপারিশ করা হবে।
রিট আবেদনে বলা হয়, ওই বিধি অনুযায়ী পিএসসি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আসা পদগুলোকে সংরক্ষণ করবে এবং পরে বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিসিএসের নন ক্যাডার প্রার্থীদের ধাপে ধাপে সুপারিশ করবে।
এতে বলা হয়, পিএসসি নন ক্যাডারদের মেধা তালিকা প্রকাশ না করেই সম্পূর্ণ অন্যায় এবং বিধি বহির্ভূতভাবে ৬৪২ জনকে বিভিন্ন নন ক্যাডার পদে সুপারিশ করেছে, যা আইনের দৃষ্টিতে অন্যায়। এটি বাতিল করা আবশ্যক।
রিটে পিএসসি চেয়ারম্যান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল ও আদেশ জারি করেছে।
ওই রিটের শুনানি নিয়ে ৪৩তম বিসিএস থেকে ৬৪২ জনকে নন ক্যাডারের বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুপারিশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাই কোর্ট।
একইসঙ্গে ৪৪তম বিসিএসের ফল প্রকাশ না করা পর্যন্ত যত নন ক্যাডার শূন্যপদ হবে, তার তালিকা করে ৪৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার প্রার্থীদের থেকে নিয়োগের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল।
মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত মে মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত নন ক্যাডার পদগুলোর সমন্বয় করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৮৫০১টি পদে ৪৩তম বিসিএস এর নন ক্যাডার প্রার্থীদের মধ্য থেকে সুপারিশ করার জন্য পিএসসিকে নির্দেশ দেয়।
তবে সম্প্রতি পিএসিসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৮৫০১টি পদের মধ্য থেকে অনেকগুলো পদ প্রত্যাহার করে পরবর্তী ৪৪তম বিসিএস নন ক্যাডার প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রেক্ষাপটে ৪৩তম বিসিএসের রিট আবেদনকারী ৭৭৩ জন নন ক্যাডারপ্রার্থী তাদের জন্য বরাদ্দ করা ৮৫০১টি নন ক্যাডার পদ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য সংরক্ষণ করতে নির্দেশনা চেয়ে আদালতে আবেদন দাখিল করেন।
রোববার এ বিষয়ে শুনানির পর আদালত আবেদনকারীদের জন্য ৮৫০১টি পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।
রিটকারীর আইনজীবী পল্লব বলেন, ইতোমধ্যে অনেক চাকরি প্রার্থীর বয়সসীমা অতিক্রম হওয়ায় তারা অন্য কোনো সরকারি চাকরিতে আবেদনও করতে পারবেন না। ফলে তারা চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। এ অবস্থায় সম্প্রতি ৪৩তম বিসিএস নন ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা পদ প্রত্যাহার করে ৪৪তম বিসিএসের এর নন ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর এ বিষয়ে পিএসসি চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিসটি দেওয়া হয়েছিল। এতে প্রকাশিত ৪৩তম বিসিএসের নন ক্যাডারের ফলাফল বাতিল, ৪৩তম বিসিএসের নন ক্যাডার প্রার্থীদের মেধা তালিকা প্রকাশ এবং ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত শুন্য হওয়া নন ক্যাডার পদে ৪৩তম বিসিএস নন ক্যাডারদের সুপারিশ অব্যাহত রাখার দাবি করা হয়েছিল।
নোটিসের কোনো জবাব না পেয়ে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলেন।