Published : 23 Nov 2025, 03:47 PM
দেশের সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
টিএফআই ও জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের দুই মামলায় গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তাদের সশরীরে হাজির না হয়ে অনলাইনে হাজিরের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ রোববার এ মন্তব্য করে।
বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতের কাজ শুরু হলে সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী মাসুদ সালাউদ্দিন তার আসামিদের অনলাইনে উপস্থিতির আবেদন শুনানি করেন।
এ সময় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।
“সিনিয়র মোস্ট মন্ত্রীরা হাজিরা দিচ্ছেন। তার পরও আপনি চাইলে হিয়ারিং করতে পারেন।”
পরে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “তারা ভার্চুয়ালি হাজিরা দিতে চেয়েছেন। আদালত কমেন্ট করেছেন যে, আইন সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। যেহেতু বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি কারাগারে আছেন, তাকে কোর্টে অ্যাটেন্ড করতে হয় ফিজিক্যালি।
“অ্যাপিলেট ডিভিশনের বিচারক, সিনিয়র মন্ত্রী, বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ যারা আসামি হয়েছেন, তারা রেগুলারলি আদালতে সশরীরে এই হাজিরা দেন। সুতরাং এখানে ডিফারেন্ট কোনো ঘটনা ঘটেনি, যে কারণে অন্য কোনো বিশেষ বিবেচনায় কাউকে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার বিষয়টা অ্যালাও করতে হবে।”
এই বিষয়টা আদালত প্রয়োজন মনে করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা মনে করেন, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। সবাইকে ইক্যুয়াল ট্রিটমেন্ট দেওয়া উচিত।
“তারপরও যেহেতু ডিফেন্স পক্ষ বলেছেন তারা এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো পরবর্তীতে আবার শুনানি করতে চান। আদালত বলেছেন, হ্যাঁ সময় হলে উনি আবার শুনবেন।”
এই দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউশন ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ছিল সেনা, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা।

র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের মামলার ১৭ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার ১০ জনকে এদিন ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। তারা হলেন—
• র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম
• র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার
• র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান
• র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম
• র্যাবের সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল
• র্যাবের সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন
• র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন
• র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (এখন অবসরকালীন ছুটিতে)
• র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল কে এম আজাদ
• র্যাবের সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ এ মামলার সাত আসামি পলাতক রয়েছেন।
সেনাবাহিনীর জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) আটকে রেখে নির্যাতনের মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। তারা হলেন—
• ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিক
• ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিক
• ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) মেজর জেনারেল শেখ মো.সারওয়ার হোসেন
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ এ মামলার ১০ আসামি পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর তিন মামলায় গ্রেপ্তার মোট ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। অন্য আসামিরা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রীতে ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি।