Published : 02 Apr 2026, 08:36 PM
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় (থার্ড) টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে শুক্রবার জাপানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বসবে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
ওই বৈঠকে চুক্তির বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশাবাদী সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, তিন মাসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতে থার্ড টার্মিনাল সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রধান আর্থিক পার্থক্যের বিষয়ে জাপান সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি আশাবাদী যে আমরা আগামীকাল চুক্তির বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।”
এর আগে এদিন দুপুরে সচিবালয়ে ঢাকায় কর্মরত জাপানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকের বিষয়ে মিল্লাত বলেন, “আর্থিক পার্থক্যের বিষয়টি জাপানি রাষ্ট্রদূতকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং কনসোর্টিয়াম ও মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে পুশ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”
২০১৭ সালে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেসময় বেবিচক জানিয়েছিল, ২০২৪ সালেই পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে থার্ড টার্মিনালের। কিন্তু তা আর হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারও দফায়-দফায় চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত থার্ড টার্মিনাল চালু হয়নি। মূলত ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অপারেশনের বিষয়ে’ সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে পারা এবং টার্মিনাল ভবনের ভেতরে কিছু কাজের কারিগরি ত্রুটির জন্যই এই টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থার্ড টার্মিনাল চালু করতে না পারায় বেশ কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শুক্রবারের বৈঠকে যদি ঐক্যমত হয়, তবে চুক্তি সই করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে এই বছরের শেষ নাগাদ অথবা ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে টার্মিনালটি উদ্বোধনের আশা করা হচ্ছে।”
তার আগে ১১ মার্চ চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিমান প্রতিমন্ত্রী নয় মাসের থার্ড টার্মিনাল চালু হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।
গেল ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুততম সময়ের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি চালু করার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মার্চ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জাপানের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে বহিগর্মন ফি, অগ্রিম পরিশোধ এবং আয় ভাগাভাগির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায় বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকারও চারটি কোম্পানির একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি করে বিরাট এই অবকাঠামোটাকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ওই চুক্তি হয়নি।
গেল ১৩ মার্চ সেই জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিসহ বসেছিলেন সরকারের চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা।
জাপানি এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, সোজিৎজ কর্পোরেশন ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন।
সে বৈঠকের ধারাবাহিকতায় শুক্রবারের বৈঠকেও সরকারের পররাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
জাপানের পক্ষে দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন উপ-মন্ত্রী, জাইকা এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেবেন বলে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন।
মূলত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটি অর্থায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থাকায় তাদের দেশি কোম্পানির কাছে এটা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা শুরু থেকেই হচ্ছিল।